সেমিফাইনালের লড়াইয়ের আগে শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সেমিফাইনালের আগে নিজের দলের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, “সেমিফাইনালে পৌঁছালে আপনাকে কষ্ট করতে হবে।” ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নকআউট পর্বের যাত্রা এই কষ্ট বা লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে তাদের, ঠিক যেমনটা করতে হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে। এমনকি মিশরের বিপক্ষেও রেকর্ড গড়ে ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে তাদের।
ক্যানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর স্কালোনি বারবার একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে— আর তা হলো শারীরিক সক্ষমতা। তিনি বলেন, “শারীরিকভাবে তারা খুব শক্তিশালী দল। আমাদের জন্য তাদের বিপক্ষে জেতা কঠিন ছিল। শারীরিক দিক থেকে সুইজারল্যান্ড সত্যিই খুব ভালো।”
আর্জেন্টিনা কি শারীরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে আছে? তাদের শেষ তিনটি ম্যাচে তারা ৭৯, ৮৩, ৯২, ৯২ (পুনরায়), ১১১, ১১২ এবং ১২১তম মিনিটে গোল করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই করার মতো স্ট্যামিনা এবং মানসিক শক্তি তাদের আছে। তবে শারীরিক সক্ষমতার ভিন্ন ভিন্ন ধরন রয়েছে। দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি শারীরিকভাবে খুব একটা দৌড়ঝাঁপ করেন না। তার বয়স চল্লিশের কাছাকাছি, ম্যাচের অধিকাংশ সময় তাকে অনেকটা হাঁটতে দেখা যায়, যদিও কারিগরি দক্ষতায় তিনি অতুলনীয়।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে দ্রুততম দৌড়ের (sprint) তালিকায় আর্জেন্টিনা ১০ নম্বরে রয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টের ৪৮টি দলের মধ্যে গড়ে খেলোয়াড়দের গতিবেগের তালিকায় আর্জেন্টিনা সবার নিচে। মেসি এক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন। ব্যক্তিগত গড়ের তালিকায় তার অবস্থান ৫৮০তম। তবে এটি মেসির কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং চিন্তার বিষয় হলো, তার সতীর্থরাও কি যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন?
ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম বিশ্বকাপের দ্রুততম দৌড়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, সেখানে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ যৌথভাবে ১৯তম স্থানে আছেন। এছাড়া সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রুলার এবং গ্রানিত জাকা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছেন, যেখানে আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে একমাত্র খেলোয়াড়।
সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো লাল কার্ড দেখার পর আর্জেন্টিনা একজন বাড়তি খেলোয়াড় নিয়ে খেললেও, খুব একটা বড় জয় তারা পায়নি। সুইজারল্যান্ড আগের রাউন্ডে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলেছিল এবং এদিন প্রায় এক ঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেললেও শেষ ১০ মিনিটে ভেঙে পড়ে।
আর্জেন্টিনা এখন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। প্রতিপক্ষের দ্রুত গতির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কতটা প্রস্তুত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কেপ ভার্দে এবং মিশরও কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা প্রকাশ করেছিল।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং রদ্রিগো ডি পল থাকলেও পর্যাপ্ত দৃঢ়তার অভাব ছিল। লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে দলে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত আক্রমণ ঠেকানো। তবে মেসির ওপর ভর করে খেলার কারণে মাঠের অন্যান্য জায়গায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উইং দিয়ে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এই দুর্বলতা আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। ডেক্লান রাইস হ্যামস্ট্রিং এবং অসুস্থতায় ভুগছেন। বুকায়ো সাকা এবং রিস জেমসেরও একই সমস্যা। জন স্টোনসের ফিটনেস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আর্জেন্টিনার মতো ইংল্যান্ডকেও শনিবার ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে।
সেমিফাইনালে এমন দুটি দলের লড়াই হতে যাচ্ছে যারা বারবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও হাল ছাড়েনি। আর্জেন্টিনার দলটির বয়স বেশ বেশি। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর এবারই প্রথম কোনো দল এত বয়সী খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। তবে কাতারে একটি গোলও হেড থেকে না করা আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি গোল হেডের মাধ্যমে করেছে। তাই তাদের মানসিক শক্তিই হয়তো শেষ পর্যন্ত সফলতার চাবিকাঠি হয়ে উঠবে।
