বার্সেলোনা ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই নেই জুলে কুন্দের
বার্সেলোনায় দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন জুলে কুন্দে। তবে ক্লাবে ফেরার পরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। গত মৌসুমে কুন্দের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্সেলোনার অন্দরমহলে উদ্বেগ ছিল। এই সুযোগে আর্সেনালের মতো ক্লাবগুলো তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বার্সেলোনা বেশ সক্রিয়ভাবে খেলোয়াড় বিক্রি করছে। রোনাল্ড আরাউহোকে লিভারপুলের কাছে ধারে পাঠিয়েছে তারা এবং ফেরান তোরেসও পিএসজিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
কুন্দে কি তবে তাদের পথ অনুসরণ করবেন?
মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর উত্তর স্পষ্ট না। এই গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই নেই কুন্দের। বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল, পিএসজি এবং টটেনহ্যামের মতো বড় ক্লাবগুলো ফরাসি এই ডিফেন্ডারের ওপর নজর রাখছে বলে শোনা গেলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসেনি। যদিও ইংল্যান্ডের একটি সূত্র বলছে, টটেনহ্যাম এই ডিফেন্ডারের জন্য ৬৫ মিলিয়ন ইউরো দিতে রাজি।
এসব আগ্রহের পরেও কুন্দে অবিচল। এক বছর আগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করা ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ক্লাব এবং খেলোয়াড়—উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। কুন্দের এজেন্টও নিয়মিতভাবে ক্লাবকে একই বার্তা দিয়ে আসছেন। যদিও বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো এবং কোচ হান্সি ফ্লিক স্বীকার করেছেন, যদি কোনো অস্বাভাবিক বড় প্রস্তাব আসে তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বার্সেলোনায় মাইলফলক ছোঁয়ার পথে কুন্দে
বার্সেলোনায় নিজেকে মূল্যবান মনে করার পাশাপাশি ক্লাবের ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর একটি বড় সুযোগ রয়েছে কুন্দের সামনে। ২০২২ সালে সেভিয়া থেকে যোগ দেওয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত ১৮৮টি ম্যাচ খেলেছেন। আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেললেই তিনি এরিক আবিদালকে ছাড়িয়ে বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফরাসি খেলোয়াড় হয়ে যাবেন।
উসমানে দেম্বেলে, ক্লেমেন্ট লেংলে এবং স্যামুয়েল উমতিতির মতো তারকাদের অনেক আগেই পেছনে ফেলেছেন কুন্দে। কোচ ফ্লিকের একাদশের নিয়মিত সদস্য হিসেবে ক্যাম্প ন্যুতে থাকলে এই মাইলফলক স্পর্শ করা তার জন্য কেবল সময়ের অপেক্ষা। আগামী মৌসুমে তাকে নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। রোনাল্ড আরাউহো লিভারপুলের কাছে ধারে চলে যাওয়ায়, হান্সি ফ্লিক কুন্দেকে সেন্টার-ব্যাক হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও দেখছেন।
