বার্সেলোনায় হান্স ফ্লিকের নতুন মৌসুম: চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনার হাতছানি
এফসি বার্সেলোনায় নিজের তৃতীয় মৌসুম শুরু করছেন কোচ হান্স ফ্লিক। তবে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শুরুতেই দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত অবস্থায় পাচ্ছেন তিনি। একদিকে বিশ্বকাপ মাতানো তারকারা, অন্যদিকে লা মাসিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল তরুণরা। সেই সঙ্গে রবার্ট লেভানডভস্কিকে ছাড়া আক্রমণভাগ সাজানোর নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে তার সামনে।
আগামী ১৩ জুলাই প্রথাগত মেডিকেল পরীক্ষা ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হবে। এরপর দলটি ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ পার্কে অনুশীলনে যাবে। তবে প্রশিক্ষণের শুরুতে যে দলটিকে দেখা যাবে, প্রতিযোগিতামূলক মৌসুম শুরুর সময় তার রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
Hansi Flick begins his third season at FC Barcelona with a squad divided by the World Cup, a new group of La Masia hopefuls and an attack learning to live without Robert Lewandowski.
There will be no grand reunion when Barcelona return to work on 13 July for the customary medical examinations and physical tests, beginning a pre-season that will later take them to St George’s Park in England.
ভিন্ন গতিতে ফ্লিকের প্রাক-মৌসুম পরিকল্পনা
বার্সেলোনার গ্রীষ্মকালীন প্রস্তুতি চলছে দুই ভাগে—কাতালুনিয়া ও উত্তর আমেরিকা জুড়ে। ১৬ জন বার্সা খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। স্পেনের আট সদস্য সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবেন, যেখানে আবার জুলস কুন্দেও খেলছেন। অন্যদিকে, অ্যান্থনি গর্ডনের ইংল্যান্ড ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিশ্বকাপে খেলা প্রতিনিধিরা প্রস্তুতির শুরুতেই ফিরছেন না। ১৯ জুলাই যারা ফাইনালে খেলবেন, তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও মৌসুম শুরুর মধ্যবর্তী সময় খুব কম থাকবে।
ফ্লিক মূলত দুটি ভিন্ন দল নিয়ে কাজ করছেন। একদল জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শারীরিক ভিত্তি ও ট্যাকটিক্যাল পাঠ নিতে শুরু করবে। অন্যদল আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে যোগ দেবে। তবে পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, পাউ কুবার্সি ও কুন্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের শারীরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই এখন ফ্লিকের মূল লক্ষ্য।
লা মাসিয়ার সামনে সুবর্ণ সুযোগ
সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি কোচিং স্টাফের জন্য সমস্যা তৈরি করলেও, তরুণদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। মার্ক বার্নাল, মার্ক কাসাদো, আলেজান্দ্রো বালদে, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, জেরার্ড মার্টিন, হেক্টর ফোর্ট, ওজসিচ সেজনি এবং রুনি বার্ডঘজির মতো খেলোয়াড়রা অনুশীলনে প্রস্তুত থাকবেন। পাশাপাশি বাবা কুরৌমা, ইব্রিমা টুনকারা, ওরিয়ান গোরেন, অ্যালেক্স গঞ্জালেজ, হামজা আবদেলকারিম, শেন ক্লুইভার্ট, জাভি এসপার্ট, টমি মার্কেস, ল্যান্ড্রি ফার, আলভারো কর্টেস এবং অস্কার গিস্টাউ প্রাক-মৌসুমে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। গুইলে ও টনি ফার্নান্দেজও প্রথমবারের মতো মূল দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ফ্লিক আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি নতুন মুখ দেখতে চান। তার অধীনে ইতোমধ্যে ১৩ জন লা মাসিয়া তারকা অভিষেক করেছেন, যা তরুণদের দারুণ আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।
লেভানডভস্কি পরবর্তী বার্সার আক্রমণভাগ
রবার্ট লেভানডভস্কি বার্সেলোনার হয়ে ১২০ গোল করে বিদায় নিয়েছেন। তার শূন্যস্থান পূরণে সরাসরি কোনো স্ট্রাইকার নেওয়ার বদলে বার্সেলোনা গতি ও তীব্রতার ওপর জোর দিচ্ছে। নিউক্যাসল থেকে আসা অ্যান্থনি গর্ডন এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কারিম আদেয়েমি দলের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করবেন। ২২ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে আসা আদেয়েমি গোল ও অ্যাসিস্টে দক্ষ।
ফ্লিকের লক্ষ্য এখন এমন এক আক্রমণভাগ তৈরি করা যেখানে লামিন, গর্ডন, আদেয়েমি ও রাফিনিয়ারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবেন। সেই সঙ্গে জুলিয়ান আলভারেজকে দলে টানার চেষ্টাও চলছে। ফেরান তোরেসকে নিয়ে পিএসজি আগ্রহ দেখালেও তার ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে প্রাক-মৌসুমেই বোঝা যাবে ফ্লিক তার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন কি না।
