বার্সেলোনা থেকে মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগেনের সম্ভাব্য বিদায় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই দলবদল সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগায় আয়াক্স কর্তৃপক্ষ বেশ বিরক্ত।
আমস্টারডামে ধার বা লোনে টার স্টেগেনের যোগ দেওয়ার বিষয়টি বেশ সহজ মনে হলেও, এখন সেই প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরো চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে আয়াক্সের
মুন্দো দেপোর্তিভো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনার পক্ষ থেকে কর সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে চুক্তি স্বাক্ষর আটকে আছে। এই বিষয়টি আগে সুরাহা করা প্রয়োজন।
প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে এই প্রক্রিয়াটি বেশি দীর্ঘ হওয়ায় ডাচ ক্লাবটি এই অপেক্ষায় ক্ষুব্ধ। আয়াক্সের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছিল, সব বিষয় আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমস্টারডামের কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন না কেন কাগজপত্রের কাজ এখনো ঝুলে আছে। যে চুক্তিটি তারা সম্পন্ন বলে ধরে নিয়েছিলেন, তা এখনো অমীমাংসিত থাকায় তাদের অসন্তোষ বাড়ছে।
আয়াক্সের এই হতাশা এতটাই তীব্র যে, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে তারা চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এখনো আশার আলো রয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টার স্টেগেন ক্লাবের ট্রেনিং কমপ্লেক্সে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাক-মৌসুম শুরুর আগে অন্য খেলোয়াড়দের মতোই তিনিও যোগ দেবেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, উভয় পক্ষই এখনো এই দলবদল হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
বার্সেলোনার জন্য কেন এই দলবদল গুরুত্বপূর্ণ
টার স্টেগেনকে ছেড়ে দেওয়া বার্সেলোনার এই গ্রীষ্মের পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। তরুণ গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া নিজেকে প্রমাণ করায় ৩৪ বছর বয়সী টার স্টেগেন বার্সেলোনার প্রথম পছন্দের তালিকায় পিছিয়ে পড়েছেন। তার বিশাল বেতনের বোঝা থেকেও ক্লাবটি মুক্তি পেতে চায়।
স্পোর্টিং ডিরেক্টর জর্দি ক্রুইফ এবং আয়াক্সের নতুন কোচ মিশেল এই দলবদলের মূল কারিগর। অতীতে জিরোনায় থাকার সময়ও মিশেল এই জার্মান গোলরক্ষককে দলে নিতে চেয়েছিলেন। এই দলবদলটি সম্পন্ন হলে ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা টার স্টেগেন পুনরায় নিয়মিত ফুটবল খেলার সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে এই স্থানান্তর বার্সেলোনার স্কোয়াড এবং বেতনের চাপের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেবে। যদিও এটি পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়, কারণ কাতালান ক্লাবটিকে টার স্টেগেনের বেতনের একটি বড় অংশ এখনো বহন করতে হবে।
কাতালান কর্তৃপক্ষের এখন মূল লক্ষ্য হলো কোনো দেরি না করে কর এবং আইনি জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা। কারণ আয়াক্সের ধৈর্য যেভাবে কমছে, তাতে বার্সেলোনাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতেই হবে।
