অ্যানফিল্ডে ১৪ বছরের জয়খরা কাটানোয় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নয় আর্সেনাল: ডেক্লান রাইস
আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস বিশ্বাস করেন, অ্যানফিল্ডে ক্লাবের ১৪ বছরের জয়খরা অবসানের ফলে তাদের শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, খেলোয়াড়েরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন না।
রবিবার লিভারপুলের মাঠে ১-০ গোলের জয় নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে তুলেছে আর্সেনাল। ২০১২ সালের পর এটিই অ্যানফিল্ডে তাদের প্রথম জয়।
মিকেল আর্তেতা, যিনি লিভারপুলের মাঠে লিগে জয় পাওয়া আর্সেনালের সর্বশেষ দলে খেলেছিলেন, তার বর্তমান দল ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে গেছে। এছাড়া পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে তারা এখন নয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
এই জয় কি টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতার বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাইস বলেন: “হ্যাঁ, আমার মনে হয় অতীতে যে দলগুলো এখানে জিতেছে, তাদের কারোর জন্যই কাজটা সহজ ছিল না।”
“অ্যানফিল্ডে খেলা সবসময়ই কঠিন, তাই আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হয়েছে এবং সর্বস্ব উজাড় করে দিতে হয়েছে, কারণ তারা একের পর এক আক্রমণ চালায়। আমাদের প্রতিরোধ গড়তে হয়েছে এবং শক্তিশালী থাকতে হয়েছে। এই ক্লাবে ম্যানেজার যা গড়ে তুলেছেন এবং ছেলেদের মধ্যে যে ঐক্য রয়েছে, তা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এমন পারফরম্যান্স সম্ভব নয়।”
“ম্যানেজার যেভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং তিনি যা চান, তার জন্য যেভাবে সবাই কাজ করে, তা এর আগে আমি কখনো দেখিনি। তাই গত কয়েক বছর ধরে আমরা যা করে আসছি, তার সমস্ত কৃতিত্ব আমাদের প্রাপ্য।”
“এ বছরও একই পারফরম্যান্স বজায় রাখা এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা খুবই বড় বিষয়। আমরা নিজেদের জন্য এই মানদণ্ড ঠিক করেছি এবং তা ধরে রাখা আমাদেরই দায়িত্ব, আর এই জয় সেই লক্ষ্যেই সহায়তা করে।”
“এই লিগে আমি শিখেছি যে নভেম্বরের কোনো মূল্য নেই। আপনাকে কেবল সাধ্যমতো ম্যাচ জিততে হবে এবং ফেব্রুয়ারি বা মার্চে যদি আপনি কাছাকাছি থাকেন, তবে আপনার সুযোগ থাকবে।”
“লিভারপুলের দিকে তাকান। তারা নীরবেই নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে, তাদের আক্রমণভাগ অবিশ্বাস্য, রক্ষণও বেশ ভালো। ম্যান সিটি দারুণ শুরু করেছে, চেলসিও কাছাকাছি আছে। তাই কেবল জিততে থাকুন, প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগো দেখুন এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায়।”
আর্সেনালের সুশৃঙ্খল ও নিবেদিতপ্রাণ খেলা এমন পর্যায়ে ছিল যে, ২০০৩ সাল থেকে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে একটিও লক্ষ্যে শট নিতে না দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে তারা। পারফরম্যান্সটি খুব একটা নান্দনিক না হলেও তা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়।
রাইস আরও বলেন, “এই লিগে আমি যা শিখেছি তা হলো প্রতিটি ম্যাচ আলাদা, কোনো ম্যাচই সহজ নয়, খেলা সবসময়ই কঠিন হবে।”
“গত মাসের ফরেস্ট ম্যাচের (১-০ গোলের জয়) কথা যদি মনে করি, সেটা সেরা পারফরম্যান্স ছিল না, তবুও আমরা লড়াই করে জিতেছি এবং এই মৌসুমে এমন আরও ম্যাচ দেখতে হবে।”
“তবে এই ধরনের জয়গুলো বিষয়টিকে আরও একটু বেশি বিশেষ করে তোলে, তাই আমরা আনন্দিত।”