২০২৬ বিশ্বকাপে হাইড্রেলেশন বিরতি নিয়ে ফিফা পর্যালোচনা করবে: আর্সেন ওয়েঙ্গার
আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রবর্তিত হাইড্রেলেশন বিরতি বা জলপানের বিরতিগুলো যে খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি, তা তিনি স্বীকার করছেন। ফিফা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর এই বিরতির প্রভাব নিয়ে পর্যালোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার স্টেডিয়ামগুলোতে অনুষ্ঠিত সব ম্যাচের জন্য আবহাওয়া নির্বিশেষে ফিফা তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক হাইড্রেলেশন বিরতির ব্যবস্থা চালু করেছিল।
ফিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের কল্যাণের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই বিরতি রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের মতে, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সুযোগ হিসেবে এই বিরতিকে ব্যবহার করেছে।
ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান এবং আর্সেনালের সাবেক ম্যানেজার ওয়েঙ্গার বলেন, “মাঝেমধ্যে মানুষ এই বিরতিগুলো পছন্দ করেনি।” তিনি আরও জানান, ফিফা “টুর্নামেন্ট শেষে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখবে।”
তিনি যোগ করেন, “আমার কাছে মনে হয়নি এটি ম্যাচের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন এনেছে। তবে আমরা ফুটবলের দর্শকদের সেবা দিতে এখানে এসেছি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।”
“অনেক ম্যাচে, বিশেষ করে ঢাকা স্টেডিয়ামগুলোতে, মানুষ এতে সন্তুষ্ট ছিল না। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে সবার জন্য এটি প্রযোজ্য হবে।”
টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, এই বিরতির কারণে খেলা থমকে যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে বিরক্তি বাড়তে থাকে এবং তারা এটি নিয়ে দুয়ো দিতে শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞরা বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স স্পোর্টসে বিশ্বকাপের ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন স্লটের গড় মূল্য ২ লাখ ডলার থেকে ৩ লাখ ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলাগুলোতে এই মূল্য বেড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছায়।
এই বিরতিগুলো কার্যকারভাবে কৌশলগত ‘টাইম-আউট’ হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে কোচরা খেলোয়াড়দের সাথে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এই ধরনের বিরতি চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের ম্যানেজার থমাস টুখেল টুর্নামেন্টের শুরুতেই এটি পছন্দ নয় বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এগুলো ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে এবং ম্যাচের পরিচয় বদলে দেয়।”
তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে গত মাসে এই বিরতির পক্ষে নিজের সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় আমার খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই। আমার মনে হয় এটি সঠিক পদক্ষেপ—একটু বিরতি নেওয়া, সতেজ হওয়া এবং খেলা চালিয়ে যাওয়া।”
এদিকে ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, ৩২টি দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তটি সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, “টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, কিন্তু আমরা মনে করি আরও বেশি দলকে সুযোগ দেওয়া নৈতিকভাবে জরুরি ছিল। আমি নিশ্চিত যে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং এটি একটি বড় সাফল্য।”
