২০২৬ বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ
২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় দলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন ফোলারিন বালোগুন। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ২৫ বছর বয়সী এএস মোনাকোর এই খেলোয়াড় যখন জানতে পারেন যে, শেষ ষোলোর ম্যাচে তার লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করা হয়েছে, তখন তিনি একই সঙ্গে উচ্ছ্বাস ও উদ্বেগের সম্মুখীন হন।
মঙ্গলবার সিবিএস মর্নিং-এ বালোগুন বলেন, “শুরুতে আমি দলে ফিরতে পেরে খুশি ছিলাম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে বুঝলাম এটি অনেক বিতর্কের জন্ম দেবে। আমার সতীর্থদের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছিল, কারণ এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ম্যাচের সময় যত এগিয়ে আসছিল, আমি মনোযোগ ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাইরের অনেক আলোচনার কারণে তা বেশ কঠিন ছিল।”
বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের একদিন আগে এই শাস্তির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ফিফার এই সিদ্ধান্তে বেলজিয়ামের ফুটবল কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বালোগুনের হঠাৎ খেলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেন এবং বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার আহ্বান জানান। সোমবার সিয়াটলে শেষ ষোলোর ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প নিজেও তার এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
“All I did, I asked for a review, cause I didn’t think it was a foul,” Trump said at a White House media briefing. “I thought it was two great athletes that crashed into each other and got entangled. That was not a guy punching somebody in the face or anything that would be different.
“If they wouldn’t allow a top player, maybe among the best players, on the team to play, I think it would have had a big stain.”
Trump added: “I didn’t tell him what to do. I can’t tell him what to do. And I don’t believe he made the decision. I think it was a committee that made the decision. And they made the right decision. …
তবে পরবর্তীতে জানা যায়, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির ১৭ জন সদস্যের কারোর পরামর্শ ছাড়াই শুধুমাত্র শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-কামালি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন তুললেও, অনেকে অবশ্য শাস্তির পক্ষেই ছিলেন। সাবেক মার্কিন কোচ ব্রুস এরিনা এই ফাউলটিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে শাস্তির যথার্থতা সমর্থন করেছিলেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে আঘাতের ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত ছিল বলে দাবি করেন বালোগুন। তিনি বলেন, “এটি কোনো ট্যাকেলই ছিল না। ইচ্ছাকৃত কিছু না থাকলে সেটিকে লাল কার্ড দেওয়া উচিত নয়।”
৬ জুলাই বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো বাইরের অস্থিরতাকে দায়ী করতে নারাজ। বালোগুনও জানিয়েছেন যে দল পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েই মাঠে নেমেছিল।
শাস্তি স্থগিত হলেও বালোগুনকে ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে এবং তার শাস্তি এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাঠের বিতর্ক ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে বালোগুনের পরিচিতি বেড়েছে। তিনি লিবারন জেমসের এজেন্ট রিচ পলের মালিকানাধীন ‘ক্লাচ স্পোর্টস গ্রুপ’-এ যোগ দিয়েছেন। টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে বালোগুন বলেন, “দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরে আমি গর্বিত। আমি দেখেছি কত শিশু ও ভক্ত আমাদের এই যাত্রায় শামিল হয়েছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ এক অনুভূতি।”
