জেকির চেলিককে দলে টেনে রোমাকে বড় ধাক্কা দিল জুভেন্টাস
জেকি চেলিকের জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখন পুরোপুরি পরিষ্কার। এই ঘটনায় ইতালির রাজধানী রোমায় বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। রোমা এই ডিফেন্ডারের জন্য বিমানের টিকিট বুক করে রেখেছিল এবং শুক্রবার তার মেডিকেল পরীক্ষার সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই জুভেন্টাস দলবদলের বাজিমাত করে দিল।
লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত এবং তাত্তোস্পোর্তের তথ্যানুযায়ী, স্পোর্তমেদিয়াসেতের মাধ্যমে জানা গেছে, রোমার সঙ্গে চেলিকের চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর দিকে থমকে থাকলেও পরবর্তীতে তা আবার গতি পায়। ইতালির ট্যাক্স ইনসেনটিভের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চেলিক শুরুতে বছরে প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ইউরো দাবি করেছিলেন। তবে ধীরে ধীরে দুই পক্ষ ৩ থেকে ৩.১ মিলিয়ন ইউরো এবং বোনাস প্যাকেজে চুক্তিতে পৌঁছায়।
চুক্তিটি কার্যত সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। নতুন স্পোর্টিং ডিরেক্টর টনি ডি’আমিকো প্রস্তাবিত নথিপত্রে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছিলেন, শুধু খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরের অপেক্ষা ছিল। রোমা এই ব্যাপারে এতটাই নিশ্চিত ছিল যে তারা ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের ফ্লাইট বুক করে রেখেছিল এবং আজ ১৭ জুলাই মেডিকেল পরীক্ষার সময়ও ঠিক করে ফেলেছিল।
মাসারার বিশেষ জ্ঞান এবং চেলিকের দলবদলে গাসপেরিনির ক্ষোভ
এরপরই জুভেন্টাস হঠাৎ এই ‘ব্লিটজ’ বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, যা পুরো দৃশ্যপট বদলে দেয়। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন জুভেন্টাসের বর্তমান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ফ্রেদেরিক মাসারা। রোমায় স্পোর্টিং ডিরেক্টর থাকাকালীন তিনিই ব্যক্তিগতভাবে চেলিকের সাথে চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তখন চেলিকের উচ্চ বেতন দাবির কারণে ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি আলোচনা স্থগিত করেছিলেন।
তুরিনে বসে মাসারা সেই পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত গোপনে চেলিকের সাথে আলোচনা চালিয়ে যান। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে জুভেন্টাস চেলিককে সই করানোর ঘোষণা দেয়।
এই ঘটনায় রোমার কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি চরম ক্ষুব্ধ। রোমার কোচ ফ্রাইডকিন মালিকপক্ষের কাছে ব্যক্তিগতভাবে চেলিকের চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার মিশনে তিনি এই তুর্কি ডিফেন্ডারকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। ভক্তরাও এই দলবদলকে সহজভাবে নিতে পারেননি। বিদায়ী দীর্ঘ চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকরা এই ডিফেন্ডারকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
