বিশ্বকাপ ফুটবলে ৬৪ দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবল বিশ্বকাপকে ৬৪ দলে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। বর্তমান ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্য থেকেই মূলত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ পাচ্ছে। ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের ব্রডকাস্টার ‘ব্লু স্পোর্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করব।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ মানেই পুরো বিশ্বের জন্য একটি আয়োজন—এটি কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার অধিকার থাকা উচিত। বিশ্বের সব প্রান্তেই দলগুলোর খেলার মান অত্যন্ত উন্নত হচ্ছে। ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির প্রেরণা কমে যাবে।’
২০১৭ সালে ফিফা কাউন্সিল ৪৮ দলের বিশ্বকাপে অনুমোদন দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া জর্ডান এবং উজবেকিস্তানও টুর্নামেন্টে অভিষেক করেছে। কেপ ভার্দের নকআউট পর্বে যাওয়ার মতো চমকপ্রদ পারফরম্যান্সও এই আসরে দেখা গেছে, যেখানে তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াইয়ে বাধ্য করেছিল।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণের ফলে খেলার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, ইনফান্তিনো ৪৮ দলের আসরকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি দলই উচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলেছে। প্রতি মহাদেশের দলগুলোই গোল পেয়েছে এবং অন্তত একটি পয়েন্ট অর্জন করেছে। এমনকি গত বিশ্বকাপে আফ্রিকার মাত্র পাঁচটি দল থাকলেও, এবার নয়টি দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ফেডারেশন কনমেবল গত এপ্রিল মাসে এই প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উয়েফার আলেকজান্ডার সেফেরিনসহ অনেকে মনে করেন, এটি টুর্নামেন্ট এবং বাছাইপর্বের জন্য খারাপ সিদ্ধান্ত। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা মনে করেন, এতে ‘বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হবে। একই সুর শোনা গেছে কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টারগ্লিয়ানির কণ্ঠেও। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর ক্ষতি করতে পারে।
এদিকে, প্রতিটি অর্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানিবিরতি চালু নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে একে টেলিভিশন পার্টনারদের বিজ্ঞাপনের আয় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। ইনফান্তিনো বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব বিশ্বকাপে যখন তাপমাত্রা বেশি ছিল, তখন প্রায় ৬০ শতাংশ ম্যাচে এই বিরতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সব দল যেন একই পরিস্থিতিতে খেলে, তা নিশ্চিত করতে এটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে।
বিশ্বকাপের উচ্চ টিকিটের দাম নিয়েও নিজের সাফাই গেয়েছেন ফিফা সভাপতি। তিনি জানান, স্টেডিয়ামগুলোর ধারণক্ষমতা ৯৯.৭ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে এবং টুর্নামেন্ট শেষে তা ৯৯.৯ শতাংশে পৌঁছাবে। তিনি দাবি করেন, বিশেষজ্ঞদের নির্ধারণ করা দামেই টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা এখন সেকেন্ডারি মার্কেটে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ইনফান্তিনো আশা প্রকাশ করেন, ৩৯ দিনের এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক আয় করবে, যা তার ভাষায় অত্যন্ত সন্তোষজনক।
