নাপোলির জয়ে ম্যাকটমিনের জোড়া গোলের পাশাপাশি ডি ব্রুইনের নতুন ভূমিকা
নাপোলির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম জয় পাওয়ার ম্যাচে শুধু ম্যাকটমিনের জোড়া গোলই ছিল না, কেভিন ডি ব্রুইনের এক অসামান্য অবদানও ছিল। যদিও তার ভূমিকাটি সরাসরি গোল করার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল, কিন্তু নাপোলির চার গোলের জয়ে তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন।
কোচ অ্যালেগরি তাকে একটি অপরিচিত অবস্থানে খেলান। রক্ষণভাগের সামনে প্লেমেকার হিসেবে তাকে দলের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল, তবে বেলজিয়ান এই মিডফিল্ডার তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে কোচকে হতাশ করেননি।
অপটা (Opta) তথ্য অনুযায়ী, ডি ব্রুইন ৮২ বার বল স্পর্শ করেছেন এবং ৬৫টি পাসের মধ্যে ৫৯টিই সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, যার সাফল্যের হার ৯১%। প্রতিপক্ষের অর্ধে নাপোলির বিল্ড-আপে তার নির্ভুলতা ছিল নজরকাড়া; ৩৯টির মধ্যে ৩৪টি পাস তিনি সঠিকভাবে দলের সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া নিজের রক্ষণভাগে তিনি ছিলেন প্রায় নিখুঁত, ২৬টির মধ্যে ২৫টি পাস সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন (৯৬%)।
নাম্বার টেন সুলভ দৃষ্টিসহ একজন গভীর প্লেমেকার
লক্ষ্য থেকে দূরে খেললেও ডি ব্রুইন তার সহজাত সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলেননি। তিনি ৭টি কি-পাস দিয়েছেন, ২টি বড় সুযোগ তৈরি করেছেন এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার নতুন ভূমিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান হলো ১১টির মধ্যে ৮টি সফল লং বল, যার সাফল্যের হার ৭৩%।
তার পাসিং ম্যাপ দেখাচ্ছে যে তিনি পুরো মাঠ জুড়ে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রক্ষণভাগ থেকে বল সংগ্রহ করে খেলার গতি পরিবর্তন এবং আক্রমণে হঠাৎ ছন্দ যোগ করতে দক্ষ। লবোটকা সাধারণত দলের তাল রক্ষা করেন, কিন্তু ডি ব্রুইন রক্ষণাত্মক ভূমিকা থেকে খেললেও একজন সৃজনশীল খেলোয়াড়ের মতোই চিন্তা করেছেন।
ডি ব্রুইন মাঠে কঠোর পরিশ্রমও করেছেন
তার পারফরম্যান্সের আরেকটি দিক যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তা হলো বল ছাড়া তার কাজ। ডি ব্রুইন ৭টি রক্ষণাত্মক অবদান রেখেছেন এবং ৬টি বল পুনরুদ্ধার করেছেন। এছাড়া ২টি ইন্টারসেপশন ও ২টি ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি ৩টির মধ্যে ২টি এরিয়াল ডুয়েল জিতেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল বল বিতরণই করেননি, বরং দলের রক্ষণভাগ সুরক্ষিত করতেও কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
ভিলারিয়াল থেকে বোডো: অ্যালেগরি কি তবে সঠিক ছিলেন?
এটি অনিবার্যভাবে ভিলারিয়ালের ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়। সেবার ডি ব্রুইন তাকে রক্ষণভাগে নামিয়ে খেলানোর কৌশলের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে বোডোর বিপক্ষে অ্যালেগরি কেবল সেই কৌশলটিই ফিরিয়ে আনেননি, বরং তাকে আরও জটিল এক দায়িত্ব দিয়ে বিল্ড-আপের মূল কেন্দ্রে রেখেছেন। মাঠে ডি ব্রুইন তার পারফরম্যান্স দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন।
ভিলারিয়ালের সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে বেরিয়ে ডি ব্রুইন এখন একজন দক্ষ প্লেমেকার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছেন। তিনি গোলপোস্টের কাছে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলেও, মাঠের যেকোনো জায়গা থেকে যে প্রভাব ফেলতে পারেন, তা এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ডি ব্রুইন কি তবে অ্যালেগরির পরামর্শগুলো আরও মনোযোগ দিয়ে শুনবেন?
