গ্রিসের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের আগে ইংল্যান্ডের গোল পাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে গ্রিসের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তবে এই জয় আরও বড় হতে পারত কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। শুক্রবার গ্রিসের ক্রিটে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগ ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
প্রথম লেগে বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখলেও ২৬টি শট থেকে মাত্র তিনটি গোল করতে সক্ষম হয় দলটি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে তারা একটি গোল হজম করে এবং গ্রিসের একটি শক্তিশালী শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। লিচেস্টারে মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ফিরতি লেগে নিজের দলের কাছ থেকে আরও কার্যকর ফুটবল প্রত্যাশা করছেন কোচ সারিনা উইগম্যান।
দলের সুযোগ কাজে লাগানোর এই ঘাটতি নতুন নয়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে রানার্স-আপ হওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ডকে এই সমস্যার মুখোমুখি হতে দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে হাইতি ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় এবং নকআউট পর্বে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউট ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে জয়ের ঘটনাগুলো সেই চিত্রই তুলে ধরে।
চলতি বছর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ইংল্যান্ড ভালো খেললেও জয়গুলো খুব একটা সহজ ছিল না। আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিপক্ষে লড়াই করে জেতার পাশাপাশি গ্রিসের বিপক্ষেও তারা প্রত্যাশামাফিক আক্রমণাত্মক হতে পারেনি। তবে দলটি আক্রমণ তৈরিতে পিছিয়ে নেই। গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ৫৮ বার বল স্পর্শ করেছে এবং ফাইনাল থার্ডে ২১০টি পাস দিয়েছে।
মিডফিল্ডার কেইরা ওয়ালশ বলেন, “২০২৩ সালের তুলনায় আমাদের খেলার ধরণ বদলেছে। বিশ্বকাপে অনেক বেশি চাপ থাকে। বাছাইপর্বের এই ম্যাচগুলোতে যদি আমরা ফাইনাল থার্ডে পৌঁছাতে না পারতাম, তবে সেটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হতো। আমাদের মূল সমস্যা শেষ পাস, ক্রস এবং শট নেওয়ার ক্ষেত্রে। আশা করি, আগামীকালের ম্যাচে আমরা এটি কাটিয়ে উঠতে পারব।”
দলের হয়ে গোল করার ক্ষেত্রে আর্সেনালের মিডফিল্ডার জর্জিয়া স্ট্যানওয়ে দারুণ ছন্দে আছেন। ইউরো ২০২৫-এর পর থেকে তিনি ১০টি গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক গোলের তালিকায় তিনি শীর্ষ তিনে রয়েছেন, যেখানে তার গোলপ্রতি মিনিটের হার ৮১।
কোচ উইগম্যান মনে করেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা ভালো অবস্থানে পৌঁছাচ্ছি, কিন্তু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তগুলো আরও নিখুঁত হতে হবে। অফসাইড এড়িয়ে সঠিক সময়ে সঠিক পাস এবং ক্রসের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।”
ইংল্যান্ডের দলে প্রতিভার অভাব নেই, তবে খেলোয়াড়দের সঠিক পজিশনে ব্যবহার করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চেলসির লরেন জেমস উইংগার, ১০ নম্বর পজিশন এমনকি সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলছেন। স্ট্রাইকার অ্যাগি বিভার-জোনস ও মিশেল আগিমংয়ের ইনজুরির কারণে ৯ নম্বর পজিশনে আলেসিয়া রুশোর জন্য খুব বেশি বিকল্প নেই। অন্যদিকে লরেন হেম ফর্মে থাকলেও গোল করার ক্ষেত্রে খুব একটা পরিচিত নন, আর বেথ মিডকে মাঝমাঠ ও আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার এলেন হোয়াইট মনে করেন, দলের ছন্দ ধরে রাখা ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা খুব জরুরি। ইউরো ২০২৫-এর পর থেকে ইংল্যান্ডের ১১ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচ জেতার সক্ষমতা নিয়ে এখনও ঘাটতি রয়েছে। লরেন হেম ৬৬৭ মিনিট খেলে মাত্র দুটি গোল করেছেন এবং লরেন জেমস গত ৪২৫ মিনিটে কোনো গোল পাননি।
সাবেক মিডফিল্ডার ফ্রান কার্বি বলেন, “ডি-বক্সের আশেপাশে মুভমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে স্বার্থপর না হয়ে এমন কাউকে পাস দিতে হবে যার গোল করার সম্ভাবনা বেশি। গ্রিসের বিপক্ষে খেলাটি নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বদলে তাড়াহুড়ো মনে হয়েছে।”
