রিয়াল মাদ্রিদে টিকে থাকতে মরিনহোর আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো
রিয়াল মাদ্রিদে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ১৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর কাছে। মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম একাদশে জায়গা করে নিতে হলে এই তরুণ খেলোয়াড়কে কোচ হোসে মরিনহোর মন জয় করতে হবে। অন্যথায়, মৌসুম শুরুর আগেই তাকে অন্য কোনো ক্লাবে ধারে (লোন) পাঠিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বার্নাব্যুতে কঠিন প্রথম মৌসুম
রিভার প্লেট থেকে আসা এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাদ্রিদে তার প্রথম মৌসুমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৩৫টি ম্যাচে মাঠে নামলেও মাত্র ১৭ বার শুরুর একাদশে ছিলেন এবং পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পেরেছেন মাত্র একবার। ১,৪৮৪ মিনিট মাঠে থেকে তিনি মাত্র তিনটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৬০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তাকে দলে নিলেও, মাঠের পারফরম্যান্স সেই বিনিয়োগের তুলনায় খুবই সামান্য ছিল।
মৌসুম যতই এগিয়েছে, ততই তার খেলার সুযোগ কমেছে। বিশেষ করে আরবেলোয়ার আগমন এবং মরিনহোর নতুন কৌশলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা পাননি মাস্তানতুয়োনো, যা তার বর্তমান সক্ষমতা এবং প্রত্যাশার মধ্যে থাকা বিস্তর ফারাককেই স্পষ্ট করে দেয়।
মরিনহোর অধীনে প্রাক-মৌসুমই এখন আসল পরীক্ষা
ভালদেবেবাসে মরিনহোর প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেওয়া আটজন খেলোয়াড়ের মধ্যে মাস্তানতুয়োনো অন্যতম। আন্তর্জাতিক দায়িত্বে থাকা বাকি খেলোয়াড়রা ফেরার আগেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ তার সামনে রয়েছে। এই মুহূর্তে দলের ডান প্রান্তে কিছুটা সুযোগ রয়েছে, কারণ মার্চ মাসে হাঁটুতে গুরুতর চোট পাওয়া রদ্রিগো নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠের বাইরে আছেন এবং আরদা গুলের এখনো ছুটিতে রয়েছেন। প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচগুলোতে নিজেকে প্রমাণের এটিই উপযুক্ত সময়।
মাস্তানতুয়োনোর সামনে সুযোগ থাকলেও চাপও কম নয়। প্রাক-মৌসুমে মরিনহোর কঠোর নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে সবাই জানেন। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কেবল সৃজনশীলতা নয়, বরং ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন এবং রক্ষণভাগে অবদানও আশা করেন। একজন বাঁ-পায়ের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে মাস্তানতুয়োনোর জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মরিনহোর এই কঠোর চাহিদা পূরণ করা মোটেও সহজ কাজ নয়।
ব্যর্থ হলে ধারের পথেই সমাধান
মুন্দো দেপোর্তিভোর ভাষ্যমতে, মাস্তানতুয়োনো এই প্রাক-মৌসুমকে মরিনহোর আস্থা অর্জনের সেরা মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। যদি তিনি ব্যর্থ হন, তবে তাকে লা লিগা বা ইউরোপের অন্য কোনো উন্নত মানের ক্লাবে ধারে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি খেলার নিয়মিত সুযোগ পাবেন এবং নিজের ফর্ম পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারবেন, পাশাপাশি তাকে দলে নেওয়ার জন্য করা বিনিয়োগও পুরোপুরি বৃথা যাবে না।
মরিনহোর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক একাদশ ঘোষণা এবং গ্রীষ্মকালীন দলবদল শেষ হওয়ার পরই মাস্তানতুয়োনোর ভাগ্য চূড়ান্ত হবে। তবে আপাতত, ডান দিকের পজিশনটি নিজের করে নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মাস্তানতুয়োনোর ওপরই নির্ভর করছে।
