রেফারিং নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অসন্তোষ ও বিতর্ক তুঙ্গে
মাদ্রিদ ডার্বির তিন সপ্তাহ পার হলেও লা লিগায় রেফারিং নিয়ে বিতর্ক আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। ডার্বির সময় রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিল, কারণ তাদের ধারণা ছিল যে সিদ্ধান্তগুলো তাদের বিপক্ষে নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এই সমস্যাটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ভিনিসিউস জুনিয়রের বহিষ্কার এবং তার করা গোল বাতিল হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ এবং রেফারিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই বিরোধ সহজে মেটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রেফারিং সিস্টেমের সমালোচনা অব্যাহত রাখল রিয়াল মাদ্রিদ টিভি
‘এএস’ (AS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ টিভি রেফারিং সিস্টেমের বিরুদ্ধে ফের কঠোর সমালোচনা শুরু করেছে।
ম্যাচটিতে ভিনিসিউস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের পাঁচটি হলুদ কার্ড, কোচ হোসে মরিনহো এবং দলের প্রতিনিধি চেন্দোকে বুকিং দেওয়া হয়। এমনকি গোলকিপিং কোচ নুনো সান্তোসকেও লাল কার্ড দেখতে হয়। সব মিলিয়ে মাত্র আটটি ফাউলের বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সদস্যদের মোট নয়টি কার্ড দেখানো হয়েছে।
ক্লাবটি এবং তাদের অফিসিয়াল মিডিয়া চ্যানেলগুলোর অভিযোগ শুধু এই পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মতে, নিজেদের ম্যাচ এবং অন্যান্য দলের ম্যাচেও ধারাবাহিক এবং অন্যায্য সিদ্ধান্তের নজির তৈরি করা হচ্ছে।
আলাভেস-অ্যাটলেটিকো ম্যাচের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক
এই সপ্তাহের আলাভেস বনাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ম্যাচের একটি ঘটনাকে তারা উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছে। সেখানে জুলিয়ান আলভারেজের সাথে সংঘর্ষের পর ভিএআর (VAR)-এর হস্তক্ষেপে অ্যাঞ্জেল পেরেজকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
রেফারি কুইন্টেরো গঞ্জালেজ শুরুতে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিডো সান্তানা এটিকে সরাসরি লাল কার্ডের যোগ্য ঘটনা বলে মনে করেন। বিপরীতে, মাদ্রিদ ডার্বিতে ফেড্রিকো ভালভার্দের ওপর কাং-ইন লির করা কঠিন চ্যালেঞ্জের ঘটনায় রেফারি ওটিজ আরিয়াস এবং ভিএআর ট্রুজিলো সুয়ারেজ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি।
পুরানো ঘটনার স্মৃতি উসকে দিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের অভিযোগ
ক্লাব এবং সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। ভিনিসিউসের বহিষ্কারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২০ সালে আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে ভিক্টর লাগুয়ার্ডিয়া কর্তৃক মার্সেলোর চুল ধরে টানার পুরনো ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি এবং রিয়াল মাদ্রিদের একটি পেনাল্টির আবেদনও উপেক্ষা করা হয়েছিল, যে ম্যাচে মাদ্রিদ ২-১ গোলে হেরেছিল।
রিয়াল মাদ্রিদ টিভি বর্তমানের ঘটনার পাশাপাশি সেই পুরনো ফুটেজগুলোও তুলে ধরছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও ভিনিসিউস লাল কার্ড দেখেছিলেন। তখন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্টোল দিমিত্রিয়েভস্কি ব্রাজিলিয়ান তারকাকে মাটি থেকে তুলে ধরলে ভিনিসিউস তার গলায় ধাক্কা দেন। ওই ঘটনায় ভিনিসিউস বহিষ্কার হলেও ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়াড় কোনো শাস্তি পাননি। এই তুলনামূলক আলোচনাগুলোই এখন রিয়াল মাদ্রিদের মূল যুক্তি হিসেবে সামনে আসছে যে, একই ধরনের ঘটনায় সমান বিচার করা হচ্ছে না।
রেফারিদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু
নেগ্রেইরা মামলাটি এখনো উত্তেজনার একটি বড় কারণ এবং সাম্প্রতিক লাল কার্ডের ঘটনা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে “ফেডারেশনে দুর্নীতি” এবং “নেগ্রেইরা এখনো রেফারি করছেন” বলে স্লোগান শোনা যায়।
ভিনিসিউসের বহিষ্কার এবং তার গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের পর বার্নাব্যুর দর্শকদের ক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ঘটনার পর স্টেডিয়ামজুড়ে স্লোগান আরও জোরালো হয়ে ওঠে। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে নেগ্রেইরা মামলার কোনো সুরাহা না হওয়া এবং রেফারিংয়ের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তগুলো কর্মকর্তাদের প্রতি তাদের অসন্তোষকে বাড়িয়েই চলেছে।
