ব্যর্থতার বৃত্তে জুভেন্টাস, চাপের মুখে কোচ স্প্যালেটি
জুভেন্টাস গত মৌসুমে ইগর টিউডরকে বরখাস্ত করার পর লুসিয়ানো স্প্যালেটির অধীনে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন মৌসুম ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু ২৫-২৬ মৌসুমের শেষ দিনে তোরিনোর বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ না পাওয়ায় ইতালির এই জায়ান্ট ক্লাবটিকে নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত এপ্রিলে জুভেন্টাস বোর্ড লুসিয়ানো স্প্যালেটির ওপর আস্থা রেখে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিল। তবে দলের বর্তমান পারফরম্যান্সের উন্নতি না হলে রোমা, ইন্টার ও নাপোলির সাবেক এই কোচের সঙ্গে খুব দ্রুতই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে বিয়ানকোনেরিদের।
ইউনিপোল ডুমাস স্টেডিয়ামে কাগলিয়ারির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর তুরিনের ক্লাবটি বর্তমানে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ইন্টার ও লাৎসিও থেকে তারা এখন ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, স্প্যালেটির বর্তমান পারফরম্যান্স অনেকটা গত মৌসুমে ইগর টিউডরকে বরখাস্ত করার আগের পরিস্থিতির মতো। মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচে টিউডর ১২ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন, যা স্প্যালেটির চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি। এছাড়া গোল করা ও গোল হজম করার পরিসংখ্যানেও দুই কোচের রেকর্ড প্রায় সমান; দুজনেই নয়টি গোল করেছেন এবং পাঁচটি গোল হজম করেছেন।
তাই লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের জিওভান্নি আলবানসে জুভেন্টাসের কোচ হিসেবে লুসিয়ানো স্প্যালেটির মুখোমুখি হওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন।
দুর্বল আক্রমণভাগ
ফরাসি ফরোয়ার্ড রান্ডাল কোলো মুয়ানিকে এই গ্রীষ্মে পুনরায় দলে ফিরিয়েছিল জুভেন্টাস। ২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজি থেকে ছয় মাসের লোনে এসে ১৬ ম্যাচে ৮ গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের কাছে।
তবে ৪১ মিলিয়ন ইউরোর এই ফরাসি ফরোয়ার্ড চলতি মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল করতে পেরেছেন।
স্প্যালেটি আক্রমণভাগে নতুন কৌশলে কোলো মুয়ানিকে কিছুটা স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দিয়েছেন এবং নিকো গঞ্জালেজকে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিন্তু সাবেক এই পিএসজি ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এছাড়া ট্রান্সফার ডেডলাইনের শেষ দিনে নিউক্যাসল থেকে লোনে আসা নিক ওলতেমাদেও বেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স করছেন। ২৪ বছর বয়সী এই জার্মান ফরোয়ার্ড সেরি আ’তে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলে একটি গোলও করতে পারেননি। তার মধ্যে গোল করার মতো সহজাত দক্ষতার অভাব স্পষ্ট।
নেতৃত্বের অভাব
নিকো গঞ্জালেজ এবং গ্লিসন ব্রেমারের মতো বেশ কিছু নেতা দলে উঠে আসলেও, সামগ্রিকভাবে দলটির আরও পরিপক্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সবশেষ ম্যাচে ফ্যাবিও পিসাকানের দলের বিপক্ষে ড্র করার মাধ্যমে লুসিয়ানো স্প্যালেটির অধীনে জুভেন্টাস টানা ১৪টি এমন ম্যাচে জয়হীন রইল, যেখানে তারা প্রথমে গোল হজম করেছিল।
দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সামাল দিতে না পারা ইঙ্গিত দেয় যে, তারা হয়তো স্কুদেত্তো জেতার জন্য প্রস্তুত নয়। ইন্টার বা রোমার মতো দলগুলোর গতির সাথে পাল্লা দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
খেলোয়াড় সংকটে দল
খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ইনজুরি তালিকা নিয়ে বেশ চাপে আছেন স্প্যালেটি। কেনান ইলদিজ, অধিনায়ক ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি, খেফরেন থুরাম, জেফ একাতোর এবং জেরমি বোগা ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন।
মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলের গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে এবং সেরি আ’তে শেষ চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পাওয়া জুভেন্টাসের জন্য এই ধীরগতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন করে তুলেছে।
আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে লাৎসিও’র বিপক্ষে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে বিয়ানকোনেরিদের উজ্জীবিত করে দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে স্প্যালেটি কোনো কার্যকর সমাধান খুঁজে পান কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
