প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি নারী ফুটবলের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন
ওয়াশিংটন — ২০২৭ সালের নারী ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের নয় মাস আগে এই দুই শক্তিশালী দলের মুখোমুখি লড়াই আয়োজন করা হয়েছে প্রীতি ম্যাচ হিসেবে।
আগামী বছরের বিশ্বকাপে ব্রাজিল আসরের সেমিফাইনাল বা ফাইনালের একটি মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ম্যাচ দুটিকে। র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবং শীর্ষে থাকা স্পেন মাত্র ৭৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ১২০ মাইল দূরত্বের দুটি আলাদা ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচটি শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ার চেস্টারের সুবারু পার্কে অনুষ্ঠিত হবে।
উভয় দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকায় এই ফলাফলের আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব কম হলেও, চার বছর পর দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে তারা এখন পর্যন্ত মাত্র চারবার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে।
ফরোয়ার্ড ট্রিনিটি রডম্যান শুক্রবার বলেন, “এটি একটি বিশাল সুযোগ, বিশেষ করে যেহেতু এটি প্রীতি ম্যাচ। বিশ্বকাপের বছরে আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছি। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে এই ম্যাচটি খেলতে পেরে আমরা অবশ্যই আনন্দিত।”
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ধারাবাহিক পরীক্ষার অংশ। এর আগে এপ্রিলে তারা জাপানের বিপক্ষে এবং জুনে ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে। আগামী মাসে কনকাকাফ (CONCACAF) বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে এই প্রীতি ম্যাচগুলো প্রস্তুতির বড় মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। বাছাইপর্বে এল সালভাদরের বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ এমা হেয়েস বলেন, “আমরা শুধু আমাদের খেলার উন্নতি অব্যাহত রাখতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো দলীয় বোঝাপড়া ও কৌশলগত দিকগুলোকে আরও উন্নত করা। খেলোয়াড়রা যেন মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আমরা সেই সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছি।”
বিশ্বকাপে আগে থেকেই জায়গা করে নেওয়া স্পেনের জন্য এই ম্যাচগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার অংশ। স্পেনের অধিনায়ক আইরিন প্যারেদেস বলেন, “এগুলো দুটি প্রীতি ম্যাচ হলেও আমরা এগুলোকে বিশ্বকাপের লড়াই হিসেবেই দেখছি। আগে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক ধাপ উপরে ভাবতাম, কিন্তু এখন আমরা তাদের সমানে সমান লড়াই করতে পারি।”
পাঁচ বছর আগেও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে জায়গা ছিল না স্পেনের। তবে এরপর তারা ২০২৩ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৫ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ২০২০ সালে শে-বিলিভস কাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের পর স্পেন তাদের শেষ ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১০টিতে হেরেছে। গত আগস্ট থেকে তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার লিলি ইয়োহানেস বলেন, “আমরা জানি তারা কতটা দুর্দান্ত। তারা ব্যক্তিগত এবং দলীয়ভাবে দারুণ দক্ষ। এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আমাদের জন্য সেরা সুযোগ।” উল্লেখ্য, এই ম্যাচটি ইয়োহানেসের জন্য একটি ‘হোমকামিং’। তিনি ভার্জিনিয়ায় বেড়ে উঠেছেন এবং শনিবারের ম্যাচে তার আমন্ত্রণে প্রায় ৬০ জন অতিথি উপস্থিত থাকবেন।
অডি ফিল্ড স্টেডিয়ামটি ওয়াশিংটন স্পিরিট দলের খেলোয়াড়দের জন্য পরিচিত জায়গা। ডিফেন্ডার তারা রুড এবং চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ট্রিনিটি রডম্যান এখানে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
ম্যালোরি সোয়ানসন, যিনি ২০২৪ অলিম্পিকের পর যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেননি, শনিবার স্পেনের বিপক্ষে ফিরতে পারেন।
(Maria Lysaker via Getty Images)
ম্যালোরি সোয়ানসনের প্রত্যাবর্তনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শনিবারের ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড ম্যালোরি সোয়ানসনের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে, যিনি সন্তান জন্মের কারণে ২০২৪ অলিম্পিকের পর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন। কোচ এমা হেয়েস জানান, জর্জিয়ার ট্রেনিং ক্যাম্পে সোয়ানসনের পারফরম্যান্সে তিনি মুগ্ধ।
এদিকে, ইনজুরির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার নাওমি গিরমা এবং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার স্যাম কফি। এছাড়া এমিলি সোনেট, অলিভিয়া মৌল্ট্রি, ক্রইক্স বেথুন এবং ক্যাটরিনা মাকারিও দলের বাইরে রয়েছেন। স্পেনের ক্ষেত্রেও ইনজুরির কারণে আইতানা বোনমাতি এবং মারিওনা ক্যালডেন্টি দলের বাইরে রয়েছেন।
এত প্রতিকূলতার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের খেলার মান উন্নত করতে বদ্ধপরিকর। ডিফেন্ডার কেনেডি ওয়েসলি বলেন, “বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে আমাদের কৌশলগুলো যাচাই করার জন্য এটিই সেরা সুযোগ।”
