বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন
ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে একটি রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে ইংল্যান্ড। এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
গোলরক্ষক
জর্ডান পিকফোর্ড: এভারটনের এই গোলরক্ষক ইংল্যান্ডের এক নম্বর পছন্দ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে এই টুর্নামেন্টটি তার জন্য সেরা ছিল না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার পারফরম্যান্স ভালো থাকলেও এনজো ফার্নান্দেজের গোলটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। প্রাপ্ত নম্বর: ৬
ডিন হেন্ডারসন: ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি খেলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ঠেকিয়ে চমৎকার একটি সেভ করলেও তিনি তিনটি গোল হজম করেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৬
জেমস ট্র্যাফোর্ড: তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে দলে থাকলেও কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। প্রাপ্ত নম্বর: প্রযোজ্য নয়
রক্ষণভাগ
এজরি কনসা: প্রতিটা ম্যাচেই মাঠে ছিলেন এই অ্যাস্টন ভিলা ডিফেন্ডার। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে রাইট-ব্যাক এবং পরবর্তীতে সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি গোলও করেছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৭
জন স্টোনস: ফিটনেস সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাকে দলে রাখা নিয়ে সংশয় ছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে তিনি ভালো খেললেও লাউতারো মার্টিনেজের গোলের সময় কিছুটা ভুল ছিল। প্রাপ্ত নম্বর: ৭
মার্ক গুয়েহি: টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক ডিফেন্ডার। নরওয়ের বিপক্ষে আর্লিং হালান্ডের বিরুদ্ধে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। প্রাপ্ত নম্বর: ৮
ট্রেভোহ চালোবাহ: ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে তিনি প্রথমবারের মতো মাঠে নামার সুযোগ পান। প্রাপ্ত নম্বর: ৫
জ্যারেল কোয়ানসাহ: প্রথমবারের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এই বায়ার লেভারকুসেন ডিফেন্ডার পানামার বিপক্ষে ভালো শুরু করেছিলেন, তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি আবার ফিরে আসেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৬
ড্যান বার্ন: মেক্সিকোর বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তার আকাশচুম্বী দক্ষতা ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করেছিল। প্রাপ্ত নম্বর: ৬.৫
নিকো ও’রাইলি: ২১ বছর বয়সী এই তরুণ ৫টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। বল পায়ে তিনি বেশ দক্ষ হলেও রক্ষণাত্মকভাগে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত নম্বর: ৬.৫
রিস জেমস: হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তিন ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে ফিরে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৬.৫
জেড স্পেন্স: এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অন্যতম আবিষ্কার। লেফট-ব্যাক ও রাইট-ব্যাক উভয় অবস্থানেই তিনি সমান পারদর্শী। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি পেনাল্টি আদায় করে দলকে সাহায্য করেছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৮
মিডফিল্ডার
ডেকলান রাইস: ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে পুরো টুর্নামেন্টে খেলেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৭.৫
জুড বেলিংহাম: ইংল্যান্ডের মূল ভরসা। এই টুর্নামেন্টে তিনি ৭টি গোল করেছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ গোলটি ছিল অসাধারণ। কোনো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন তার দখলে। প্রাপ্ত নম্বর: ৯
জর্ডান হেন্ডারসন: চার বিশ্বকাপে খেলা প্রথম ইংরেজ খেলোয়াড় হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে মেক্সিকো ম্যাচের পর বিজ্ঞাপন বোর্ডের ওপর পড়ে হাত ভেঙে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায় তার। প্রাপ্ত নম্বর: ৪
এলিয়ট অ্যান্ডারসন: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদে প্রতি ম্যাচেই তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তাকে আরও দক্ষ হতে হবে। প্রাপ্ত নম্বর: ৭
কবি মেইনু: ইনজুরির কারণে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে পারেননি। প্রাপ্ত নম্বর: প্রযোজ্য নয়
আক্রমণভাগ
বুকায়ো সাকা: গোড়ালির ইনজুরি নিয়ে খেলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৭.৫
মরগান রজার্স: প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের পেছনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত নম্বর: ৭.৫
অ্যান্থনি গর্ডন: মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি আদায় এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের ছাপ ফেলেছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৮
এবেরিচি ইজে: বেঞ্চ থেকে নেমে তিনি খেলার গতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সাকাকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৬.৫
অলি ওয়াটকিন্স: ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় অর্ধে নামার সুযোগ পেলেও পুরো টুর্নামেন্টে খুব কম সময় মাঠে ছিলেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৫
নোনি মাদুয়েকে: তার ক্রমাগত ড্রিবলিং এবং দৌড়ানোর ক্ষমতা কোচ টমাস টুখেলের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টিও আদায় করেছিলেন তিনি। প্রাপ্ত নম্বর: ৬
আইভান টোনি: পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতার জন্য তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। প্রাপ্ত নম্বর: ৬
মার্কাস র্যাশফোর্ড: প্রথম ম্যাচে গোল করলেও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। ফ্রান্সের বিপক্ষে সাকার গোলটিতে সহায়তা করেছেন তিনি। প্রাপ্ত নম্বর: ৬.৫
হ্যারি কেন: ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ছয়টি গোল করেছেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে তার অ্যাসিস্ট দলকে জিতিয়েছিল, তবে শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে শারীরিক ক্লান্তি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। প্রাপ্ত নম্বর: ৮.৫
