ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা
ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা ফুটবল বিশ্বকাপের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মূলত স্পেন ও পর্তুগালে আয়োজিত হতে যাওয়া ২০৩০ আসরের জন্য ফিফাকে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফার কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে ৪৬টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত কাউন্সিল অফ ইউরোপের প্রধান অ্যালাইন বার্সেট সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী সংকট শুরু হয়ে গেছে। এর দুটি নাম: অর্থ এবং ক্ষমতা।”
সুইজারল্যান্ডের রাজনীতিবিদ এবং দুবার ফিফার সদর দপ্তরের দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মি. বার্সেট মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছিল, যা বালোগুনকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দেয়। ওই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ৪-১ গোলে জয়ী হয়।
মি. বার্সেট তার চিঠিতে লিখেছেন, “যখন চাপের মুখে নিয়ম ভেঙে ফেলা হয়, তখন প্রতিটি ফলাফলই সন্দেহের মুখে পড়ে। রাজনৈতিক প্রভাব এখন মাঠের খেলায় চলে এসেছে। রাষ্ট্রপ্রধান ফিফা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার পরই টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে।”
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এটি ফুটবলের আইনের শাসনকে লঙ্ঘন করেছে। ফিফা এখনও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ প্রকাশ করেনি।
ফিফার বিরুদ্ধে এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট (ADI Predictstreet) নামক একটি প্রেডিকশন মার্কেট কোম্পানির সঙ্গে ১৫ কোটি ডলারের স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোম্পানিটি গঠিত হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে জুয়া শিল্পের সঙ্গে ফিফার আরও কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে।
মি. বার্সেট প্রেডিকশন বেটিং বা বাজি ধরার সমালোচনা করে বলেন, এটি অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের (insider trading) মতো লাভজনক। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি এমন মুহূর্তগুলোতে বাজির সুযোগ দেয় যা কোনো স্কোর পরিবর্তন ছাড়াই একজন খেলোয়াড় তৈরি করতে পারেন।
তিনি উপসংহারে বলেন, “এটি জালিয়াতির দরজা খুলে দেয়। আর এই বিশ্বকাপ সেই দরজা আরও প্রশস্ত করেছে।”
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৮ সালে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অখণ্ডতা এবং মানবাধিকারের মতো মূল্যবোধ ধরে রাখার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছিলেন। তবে কাউন্সিল অফ ইউরোপ প্রকাশ্যে এই উদ্বেগগুলো তুলে ধরেছে। মানবাধিকারের ইউরোপীয় কনভেনশন গঠনকারী এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রচারের লক্ষ্যে কাজ করে।
মি. বার্সেট রেফারিদের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দ্বারা খেলোয়াড়দের প্রতি বর্ণবাদী আচরণ এবং ৪৮টি দলের ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে প্রতিটি পাস, কার্ড ও কর্নারের ওপর বাজির প্রসার নিয়ে আরও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
২০৩০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ মূলত ইউরোপে অনুষ্ঠিত হবে এবং মরক্কো এর সহ-আয়োজক হিসেবে থাকবে। এছাড়াও ১৯৩০ সালের মূল টুর্নামেন্টের শতবর্ষ স্মরণে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
মি. বার্সেট তার চিঠির শেষে প্রস্তাব করেন, “আজ রাতেই একটি সংলাপ শুরু হোক, যাতে ২০৩০ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এর অখণ্ডতার কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়।”
