পিএসজিকে হারিয়ে ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নসের শিরোপা জিতল লঁস
১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্তাদ বোলের্ত-দেললিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নসের ম্যাচে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে লঁস। ঘরের মাঠে আয়োজিত এই ম্যাচে লঁস দারুণ রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। যদিও কিলিয়ান আন্তোনিও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে লঁস দশ জনের দলে পরিণত হয়। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করায় পিএসজির মেন্দেসকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্লোরিয়ান থাউভিনের করা গোলটিই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়।
ম্যাচ
ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজি আক্রমণের চেষ্টা চালায়। কাভারাটসখেলিয়া দূরপাল্লার শট নিলেও লঁস গোলরক্ষক রিসার তা আটকে দেন। এরপর ভিতিনহার পাস থেকে আকলিউশ গোল করার সুযোগ পেলেও নাভরোকির দক্ষতায় পিএসজি গোলবঞ্চিত হয়। প্রথম ২০ মিনিট পিএসজি বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখে।
ম্যাচের শেষভাগে লঁসের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন থাউভিন। তিনি ইভানোভিচকে বল বাড়িয়ে দিলেও বেরালদোর চ্যালেঞ্জে তা সফল হয়নি। আবদুলহামিদের আক্রমণাত্মক কৌশলে একবার আত্মঘাতী গোলের শঙ্কায় পড়েছিল লঁস। তবে পিএসজির প্রবল চাপের মুখেও প্রথম গোলটি আসে লঁসের কাছ থেকেই। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই থাউভিন গোলটি করেন। উদলের শট থেকে বল পেয়ে তিনি গোলরক্ষক সাফোনভকে পরাস্ত করেন।
গোল খাওয়ার পরই লঁস বড় বিপদে পড়ে। কিলিয়ান আন্তোনিও ভুল চ্যালেঞ্জ করলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। ফলে লঁস দশ জনের দলে পরিণত হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে দুয়ের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে পিএসজি সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লঁসের কোচ তোপমোলার রক্ষণের শক্তি বাড়াতে ইভানোভিচের পরিবর্তে রুবেন আগুইলারকে মাঠে নামান। পিএসজির ভিতিনহা বল হাতে পেলেও তার শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘড়ির কাঁটায় এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর লুইস এনরিকে ডেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও নুনো মেন্দেসকে মাঠে নামান। পিএসজি গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলে ডেম্বেলে ও দুয়ে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেন। শেষদিকে রুইজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের শেষভাগে নুনো মেন্দেস স্কোরাসকে আঘাত করলে তাকেও লাল কার্ড দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের লঁস রক্ষণভাগ সামলে শিরোপা নিশ্চিত করে।
লঁস খেলোয়াড়দের রেটিং:
রবিন রিসার, ৬
কিলিয়ান আন্তোনিও, ৩
৩৮তম মিনিটে আকলিউশকে চ্যালেঞ্জ করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন।
ইসমায়েলো গানিউ, ৮
দলের কঠিন সময়েও তিনি অসাধারণ রক্ষণাত্মক দক্ষতা দেখিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
মাইক নাভরোকি, ৭
সাউদ আবদুলহামিদ, ৭
মাইকেল কুইসেন্স, ৫
য়াসিন তিত্রাউই, ৭
মাথিউ উদল, ৭
ফ্লোরিয়ান থাউভিন, ৭
নতুন অধিনায়ক হিসেবে তিনি ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
ফ্রাঞ্জো ইভানোভিচ, ৪
তাকে বিরতির পরই তুলে নেওয়া হয়।
পরিবর্তে মাঠে নামেন রুবেন আগুইলার – ৭
আবদাল্লাহ সিমা, ৪
পিএসজি খেলোয়াড়দের রেটিং
ম্যাটভে সাফোনভ, ৪
আশরাফ হাকিমি, ৫
ইলিয়া জাবারনি, ৫
উইলিয়ান পাচো, ৫
লুকাস ডিগনে, ৪
লুকাস বেরালদো, ৪
ভিতিনহা, ৬
ওয়ারেন জাইরে-এমেরি, ৫
মাগনেস আকলিউশ, ৬
দেসির দুয়ে, ৬
খভিচা কাভারাটসখেলিয়া, ৫
