স্কটল্যান্ড পুরুষ ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন সেবাস্টিয়ান পোকোগনোলি
স্কটল্যান্ড পুরুষ ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোনাকোর সাবেক প্রধান কোচ সেবাস্টিয়ান পোকোগনোলি। ৩৯ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান কোচ স্টিভ ক্লার্কের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত মৌসুম শেষে মোনাকো ছাড়ার আগে তিনি ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোইসকে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৯০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন এবং ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন পোকোগনোলি। বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন। জার্মান কোচ বার্টি ফগটসের পর স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া দ্বিতীয় বিদেশি কোচ হলেন তিনি।
উল্লেখ্য, মে মাসে চার বছরের নতুন চুক্তিতে সই করার পর বিশ্বকাপ থেকে দলের গ্রুপ-পর্বে বিদায়ের ঘটনায় স্টিভ ক্লার্ক পদত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে তার সাত বছরের কোচিং অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। ক্লার্কের সহকারী হিসেবে কাজ করা স্টিভেন নেসমিথ গত মাসে জানিয়েছিলেন যে, নতুন কোচের অধীনেও তিনি জাতীয় দলের সেট-আপে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
কে এই পোকোগনোলি?
জুন মাসের শুরুতে মোনাকো থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর পোকোগনোলি জানিয়েছিলেন, তিনি এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং পরবর্তী কাজের জন্য শান্ত ও দৃঢ়তার সাথে প্রস্তুতি নেবেন। মোনাকোতে এক মৌসুমে লিগ ওয়ান-এ সপ্তম স্থান অর্জনের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। এর আগে অক্টোবর মাসে ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোইস থেকে তাকে দলে নিয়েছিল মোনাকো। মূলত এই বেলজিয়ান ক্লাবেই তিনি নিজের কোচিং দক্ষতার পরিচয় দেন।
ইংল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের শীর্ষ লিগে লেফট-ব্যাক হিসেবে ১৭ বছরের ক্যারিয়ার শেষে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সিনিয়র দলের দায়িত্ব নিয়ে দ্রুতই বেলজিয়ান সুপার কাপ জেতেন এবং ১৯৩৫ সালের পর ক্লাবটিকে প্রথম লিগ শিরোপা উপহার দেন। তার কোচিং শৈলীতে মুগ্ধ হয়েই মোনাকো তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।
পোকোগনোলি সাধারণত আক্রমণাত্মক ৩-৪-১-২ ফরমেশনে দল সাজাতে পছন্দ করেন। নিজের খেলার ধরন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি এমন ফুটবল পছন্দ করি যা বল থাকা বা না থাকা—উভয় অবস্থাতেই আধিপত্য বিস্তার করবে। হাই প্রেসিং এবং কাউন্টার প্রেসিংয়ের পাশাপাশি বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে ফুটবলাররা এক একজন শিল্পী। একজন শিল্পী যাতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারে, সেজন্য তাদের মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা জরুরি।”
