অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের চাপ সামলে দাপুটে জয় ম্যানচেস্টার সিটির
লিভারপুলের শুরুর চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার সিটি
অ্যানফিল্ডের প্রতিকূল পরিবেশে লিভারপুলের আক্রমণাত্মক শুরুর মুখে ম্যানচেস্টার সিটিকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়েছে। এনজো মারেস্কার দল শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে এবং পরে দুর্দান্ত কার্যকর ফুটবল খেলে জয় তুলে নেয়।
রায়ান গ্র্যাভেনবার্চ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর এরলিং হালান্ড, জেরেমি ডোকু এবং রায়ান চেরকির গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত লাইভ ধারাভাষ্যে এই স্কোরলাইন অটুট ছিল।
ম্যাচের শুরুর দিকে লিভারপুলের চাপে ম্যানচেস্টার সিটির রক্ষণভাগকে বেশ পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। স্কাই স্পোর্টসে জেমি ক্যারাঘার বলেছিলেন, “ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের বল পায়ে সাহস দেখাতে হবে, কারণ লিভারপুল তাদের ওপর চড়াও হবে।”
লিভারপুল ঠিক সেটিই করেছিল। ভিক্টর মুনোজ বারবার নিকো ও’রিলির ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন এবং গ্র্যাভেনবার্চের দৌড় লিভারপুলকে ম্যাচে গতি দিয়েছিল। আক্রমণাত্মক হওয়ার আগে সিটিকে তাদের রক্ষণাত্মক সংহতি বজায় রাখতে হয়েছে।
ডনারুম্মা ও অ্যান্ডারসনের নৈপুণ্যে ভিত্তি পেল সিটি
এলিয়ট অ্যান্ডারসন ম্যানচেস্টার সিটিকে ম্যাচে ফেরার রসদ জোগাচ্ছেন। তার গতিবিধি এবং বল দখলের ইচ্ছা লিভারপুলের চাপের মুখে সিটিকে বিকল্প পথ তৈরি করে দিয়েছিল, যা চেরকি ও এনজো ফার্নান্দেজকে আক্রমণে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
স্কাই স্পোর্টসে গ্যারি নেভিল জানান, “ম্যাচটি এখন উত্তেজনার পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেখানে সিটি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।”
যদিও প্রথমার্ধে সিটির আক্রমণের ধার খুব একটা দেখা যায়নি। বিরতির আগে সিটির এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.০৭, যেখানে লিভারপুলের ছিল ০.৪২। এএফপি সাংবাদিক কিয়েরান ক্যানিং এই সময়টিকে বেশ সাদামাটা বলে অভিহিত করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। ব্র্যাডলি বারকোলার বাড়ানো বল থেকে লুইস কুমার শট নিলেও জিয়ানলুইজি ডনারুম্মা দারুণ দক্ষতায় তা আটকে দেন। এরপর তিনি গ্র্যাভেনবার্চের প্রচেষ্টা এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট প্রতিহত করে সিটিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ডোকুর অন্তর্ভুক্তি ও সিটির গোল উৎসব
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ইলিয়ান এনদিয়ায়ের পরিবর্তে ডোকুকে মাঠে নামান মারেস্কা। তার গতি লিভারপুলের রক্ষণ ও মাঝমাঠের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এরই মধ্যে লিভারপুল কিছু ভালো সুযোগ নষ্ট করে। ফ্লোরিয়ান উইর্টজ গোল করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। অন্যদিকে হালান্ডও গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গ্র্যাভেনবার্চ। অ্যান্ডারসনকে ফাউল করায় ৬২ মিনিটে তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন মিনিট পরেই ডোকুর ক্রস থেকে হালান্ড নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। এর কিছুক্ষণ পরই অ্যান্ডারসনের বাড়ানো বলে ডোকু নিজেই চমৎকার এক শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন।
চেরকির গোল ও ম্যানচেস্টার সিটির জয় নিশ্চিত
৭৮ মিনিটে চেরকি দলের তৃতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন। জোসকো জিভারডিওলের সাথে চমৎকার সমন্বয়ে তিনি লিভারপুলের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান।
ম্যানচেস্টার সিটির এই জয় প্রমাণ করে যে তারা চরম চাপের মুখেও কতটা কার্যকর হতে পারে। ডোকুর গতি, অ্যান্ডারসনের নেতৃত্ব এবং হালান্ডের গোল করার দক্ষতা অ্যানফিল্ডে তাদের বড় ব্যবধানের জয় এনে দেয়। ফুটবল লেখক ইয়ান ম্যাকিনটোশ উল্লেখ করেছেন, মাঠের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির দাপট ছিল স্পষ্ট, যা তাদের সমর্থকদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকল।
