ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারলেও নজর কাড়লেন লিভারপুলের ভিক্টর মুনোজ
ভিক্টর মুনোজ
লিভারপুল এফসি
অ্যানফিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। তবে এই হারের মাঝেও তরুণ স্প্যানিশ তারকা ভিক্টর মুনোজের পারফরম্যান্স ঘরের মাঠের সমর্থকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
লিভারপুলের হয়ে এই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন ভিক্টর মুনোজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে এই নতুন ফুটবলার ছিলেন বেশ সাবলীল। নিজের গতি ও আক্রমণাত্মক খেলার মাধ্যমে তিনি বিপক্ষ দলের ফুল-ব্যাককে বারবার চাপে ফেলেছেন। ভাগ্য সহায় থাকলে তিনি এদিন একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে গোলও করাতে পারতেন।
হারের হতাশার মধ্যেও এটি লিভারপুলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। লিভারপুলের এমন খেলোয়াড় প্রয়োজন যারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াতে পারে এবং ডিফেন্ডারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মুনোজ ঠিক সেই দক্ষতাগুলোই দেখিয়েছেন।
লিভারপুলের খেলায় মুনোজের আক্রমণাত্মক ধার
এই তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গার পুরো ম্যাচেই ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি বল পায়ে ক্রমাগত প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করেছেন এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। খেলায় কেবল পজিশন ধরে না রেখে তিনি সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছেন।
অ্যান্দোনি ইরাওলা যে ধরনের ফুটবল খেলাতে চাইছেন, তাতে মুনোজের এই সরাসরি আক্রমণ করার মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি।
লিভারপুলের প্রয়োজন দ্রুত বল মুভমেন্ট এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করা। মুনোজের গতি এবং প্রতিপক্ষকে বারবার চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা এই খেলার ধরনের সঙ্গে বেশ মানানসই।
পাশাপাশি তার প্রেসিংও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। লুইস কৌনাসের সঙ্গে মিলে তিনি ম্যানচেস্টার সিটির খেলার ছন্দ নষ্ট করতে সাহায্য করেছেন। তাদের এই তৎপরতা ও আগ্রাসন ম্যাচের শুরুর দিকে লিভারপুলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রেখেছিল।
বিরতির পরেও মুনোজ নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন, কিন্তু রায়ান গ্রাভেনবার্চ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়।
লাল কার্ডে বদলে গেল খেলার চিত্র
ম্যাচের ৬২ মিনিটে গ্রাভেনবার্চ লাল কার্ড পাওয়ার আগে লিভারপুলের ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল। ডাচ এই মিডফিল্ডার ম্যাচে দারুণ খেলছিলেন এবং বল বহন করার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছিলেন।
তার বহিষ্কারের ফলে লিভারপুল দশজনের দলে পরিণত হয়, যা শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলা কঠিন করে তোলে।
এর ফলে খেলার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
ইরাওলাকে কৌশলে পরিবর্তন আনতে হয়, যা দলের আক্রমণাত্মক শক্তিকে কমিয়ে দেয়। প্রতিপক্ষ আরও বেশি জায়গা পাওয়ার ফলে লিভারপুলের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়ে।
মুনোজের কঠোর পরিশ্রম ও দৌড় সত্ত্বেও ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ফলে হারের ব্যবধান বড় হয়েছে।
তবে এই ফলাফল সত্ত্বেও মুনোজের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
গ্রাভেনবার্চের ভালো খেলার পাশাপাশি মুনোজ ধারাবাহিকভাবে বিশেষ কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা দেখিয়েছেন।
পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন হলেও লিভারপুলের জন্য এটি শিক্ষার সুযোগ। একজন বিশ্বকাপ জয়ী তরুণের গতি ও সাহস ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
মুনোজ এই ম্যাচে লিভারপুলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন এবং তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি ইরাওলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্টিভেন স্মিথের ম্যাচের আগের পূর্বাভাস:
লিভারপুল ২–০ ম্যানচেস্টার সিটি
চূড়ান্ত স্কোর:
লিভারপুল ০–৩ ম্যানচেস্টার সিটি
