ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভরাডুবির পর ব্রুনো ফার্নান্দেজের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
ইতালিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে কোমো’র কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৪-১ গোলের হারের পর অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের মন্তব্য ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই শোচনীয় পারফরম্যান্সের পর পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার সরাসরি কোচ মাইকেল ক্যারিকের কৌশলের দিকে আঙুল তুলেছেন।
টিএনটি স্পোর্টসকে ব্রুনো বলেন, “ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং না করার সিদ্ধান্তটি কোচিং স্টাফের ছিল। অনেক সময় রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। কিন্তু বড় দলের বিপক্ষে এভাবে অতিরিক্ত সুযোগ দিলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।” ক্যারিকের কৌশল ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বলেন, “এটা দেখার দায়িত্ব ম্যানেজার ও তার স্টাফদের, আমার নয়।”
তার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন লিভারপুলের সাবেক ভাইস-ক্যাপ্টেন জেমি ক্যারাঘার। সিবিএস স্পোর্টসে তিনি বলেন, “ম্যানেজার তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ায় তিনি বিব্রতবোধ করছেন, তাই এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।” ক্যারাঘার আরও যোগ করেন, “ব্রুনো সমর্থকদের খুশি করার জন্য মাঠে অহেতুক দৌড়াদৌড়ি করেন, যা দলের বাকিদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তার এই আচরণ এবং প্রকাশ্যে ম্যানেজারের সমালোচনা করাটা একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্যাপ্টেনের জন্য অশোভন।”
এর আগে লিসান্দ্রো মার্টিনেজও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর একই ধরণের মন্তব্য করেছিলেন। তবে ফার্নান্দেজের এই মন্তব্য দলের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোচ মাইকেল ক্যারিক এই ব্যর্থতার জবাবে বলেন, “সিস্টেম বা কৌশল যাই হোক না কেন, যদি খেলোয়াড়রা ঠিকমতো দৌড়াতে না পারে, তবে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শেষ সাত ম্যাচে জয়হীন। প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে তারা। লেস্টার ও সেল্টিকের সাবেক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল বিবিসি রেডিও ৫ লাইভকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ফার্নান্দেজের এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। এতে সমস্যা আরও বাড়বে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো ড্রেসিং রুমের ভেতরেই সমাধান করা উচিত।”
সাবেক চেলসি মিডফিল্ডার জো কোল ফার্নান্দেজের এই কাজকে ‘পবিত্রতা নষ্ট করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “অধিনায়ক হিসেবে কোচের সমালোচনা করাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নিয়মিত অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে ফার্নান্দেজ মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখালেও তার শারীরিক ভাষা ও নেতৃত্ব নিয়ে বারবারই প্রশ্ন উঠেছে। এর আগেও লিভারপুলের কাছে ৭-০ গোলে হারের পর গ্যারি নেভিল ও রয় কিন তাকে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী রবিবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয় কি না, অথবা ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না। এ বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
