হিবের্নিয়ানকে হারিয়ে জয়ে ফিরল সেল্টিক
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় হতাশাজনক হারের পর রবিবার এডিনবরায় হিবের্নিয়ানের মুখোমুখি হয় সেল্টিক। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা স্বাগতিকরা নতুন কোচ মারিঙ্ক রেইডিজকের অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ম্যাচের শুরুতেই ওয়েন এল্ডিংয়ের গোলে এগিয়ে গিয়ে দারুণ সূচনা করে হিবের্নিয়ান। তবে জেসন কারের আত্মঘাতী গোল এবং প্রথমার্ধের শেষদিকে ক্যামিলো ডুরানের গোলে জয় নিশ্চিত করে মার্টিন ও’নিলের শিষ্যরা।
নিচে হিবের্নিয়ানের বিপক্ষে সেল্টিক খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স রেটিং দেওয়া হলো:
স্যাম জনস্টন: ৬
ইউরোপীয় ম্যাচে হারের পর গোলপোস্টের নিচে নিজের জায়গা ধরে রাখেন তিনি। এল্ডিংয়ের গোলটি আটকানোর সুযোগ ছিল না। ম্যাচের বাকি সময়ে তেমন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি তাকে, তবে অ্যাডাম মেয়ারের একটি হেড সামলাতে হয়েছে।
কোলবি ডোনোভান: ৬.৫
দীর্ঘদিন চোটের বাইরে থাকা অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন বেঞ্চে থাকায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান তিনি। রক্ষণভাগে কিছু ট্যাকল ও ব্লকের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করলেও ক্রসে কিছুটা নির্ভুলতার অভাব ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
ডেইন মারে: ৬.৫
এল্ডিংয়ের গোলটির সময় রক্ষণভাগে আরও সতর্ক থাকা যেত। তবে সময়ের সাথে সাথে মানিয়ে নেন তিনি। বিশেষ করে এরিয়াল ডুয়েল এবং রক্ষণাত্মক ক্লিয়ারেন্সে তিনি বেশ কার্যকর ছিলেন।
লিয়াম স্কেলস: ৭
নিচ থেকে বল বিল্ড-আপ করার ক্ষেত্রে বেশ সক্রিয় ছিলেন। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে বল ক্লিয়ারেন্স ও বল পুনরুদ্ধারে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
কিয়েরান টিয়ারনি: ৭
আক্রমণ ও রক্ষণভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। তার কিছু ক্রস লক্ষ্যে না পৌঁছালেও রক্ষণ সামলানোর কাজে তিনি দক্ষ ছিলেন। জশ মুলিগানকে খুব একটা বিপজ্জনক হতে দেননি তিনি।
ক্যালাম ম্যাকগ্রেগর: ৭
মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। দূরপাল্লার একটি শট গোলরক্ষক রাফায়েল সালিঙ্গারকে পরীক্ষায় ফেলেছিল। তার ট্যাকলগুলো হিবের্নিয়ানের আক্রমণ তৈরির গতি কমিয়ে দিয়েছে।
মিকা বাউর: ৭.৫
জার্মান এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় তার পাসিং এবং ভিশনের মাধ্যমে আবারও মুগ্ধ করেছেন। দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।
ক্যামিলো ডুরান: ৮
কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড আলগা বল থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন। ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতে মাঠ ছাড়লেও তার গোলটিই দলের জয় নিশ্চিত করে।
বেঞ্জামিন নাইগ্রেন: ৬.৫
শুরুর গোলটির সময় এল্ডিংকে মার্ক করতে ব্যর্থ হলেও নাইগ্রেনের কর্নার থেকেই জেসন কার আত্মঘাতী গোলটি করেন। মাঝমাঠে সৃজনশীল হলেও তার কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন।
ক্যালাম অসম্যান্ড: ৬.৫
ফিটনেস সমস্যার কারণে মাঠের বাঁ-দিকে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। এক ঘণ্টা খেলার পর তাকে তুলে নেওয়া হয়।
ক্যাসপার হোগ: ৫
আক্রমণভাগের মূল খেলোয়াড় হিসেবে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা এই ডেনিশ ফরোয়ার্ডকে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
হিবের্নিয়ানের বিপক্ষে সেল্টিক বদলি খেলোয়াড়:
অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন: ৬
ইনজুরি থেকে ফিরেছিলেন, কিন্তু পুনরায় চোট পাওয়ায় ২০ মিনিট পরেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
জোটা: ৭
মাঠে নেমে ড্রিবলিং এবং ক্রসের মাধ্যমে বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন।
হাইসেম হাসান: ৬.৫
ডি-বক্সের আশেপাশে তার দৌড় এবং পাসিং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রেখেছিল।
ক্যামেরন কার্টার-ভিকার্স: ৬.৫
আঘাত থেকে ফিরে জনস্টনের বদলি হিসেবে নেমে রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শুমাইরা মহুকা: ৫.৫
ম্যাচের শেষদিকে ডুরানের বদলি হিসেবে নামলেও সেভাবে অবদান রাখতে পারেননি।
