ফিফা সভাপতি নির্বাচনের লড়াই: জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে এবং বিপক্ষে কোন দেশ?
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগামী বছরের নির্বাচনে তার ফিফা প্রেসিডেন্ট পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির একটি বিতর্কিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ব্যাপক সমর্থন হারিয়েছেন।
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসসহ বেশ কয়েকটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপীয় গভর্নিং বডি উয়েফার (Uefa) সাথে মিলে ইনফান্তিনোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা ২০২৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় পুনর্নির্বাচনের জন্য জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে।
তবে বেসরকারিকরণের বিতর্কিত পরিকল্পনাটি স্তিমিত হওয়ার সাথে সাথে ইনফান্তিনোর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দাবি কিছুটা জোরালো হয়েছে। তার মিত্ররা প্রকাশ্যে তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। মেক্সিকো এবং আর্জেন্টিনা আফ্রিকান ফুটবল গভর্নিং বডি ক্যাফ (Caf)-এর সাথে যোগ দিয়ে ইনফান্তিনোর প্রতি পুনরায় সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এছাড়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিয়েছে। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা তাদের মধ্যে “সত্যিকারের বোঝাপড়া” থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
পুনর্নির্বাচিত হতে হলে ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ১০৬টি ভোট প্রয়োজন ইনফান্তিনোর। ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতাকারী দেশ ও কনফেডারেশনগুলোর বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
কারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে?
উয়েফা (৫৫ সদস্য) 🇪🇺
ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ঘোর বিরোধী। ফিফা প্রতিযোগিতার বয়কটের হুমকি দেওয়ার পর ইনফান্তিনো কিছুটা পিছু হটলেও, উয়েফা তার অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে এবং এমনকি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছে।
তাদের দাবি, বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির মতো ঘটনা যে ভবিষ্যতে আর ঘটবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিডিস ফিফা কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে কিছু বিতর্কিত বিষয়ে উত্তরের জন্য ফিফাকে চিঠি দিয়েছেন। ফিফাকে ২ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
কনকাকাফ (৪১ সদস্য) 🌎
উত্তর আমেরিকা এবং ক্যারিবিয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর বিক্রয় পরিকল্পনার সময় পরামর্শ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল। পরিকল্পনটি বাতিল হওয়ার পর সংস্থাটি একে দুর্বল শাসন ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করে।
ইংল্যান্ড 🏴
ইংলিশ এফএ ২০২৭ সালের পুনর্নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন না দেওয়ার বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে ফিফাকে জানিয়েছে।
এফএ প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহাম (বামে) জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে (পিএ)
ওয়েলস 🏴
ওয়েলসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রথমদিকেই ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে চিঠি পাঠায়। তাদের মতে, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার অভাবে ফিফা প্রধানের প্রতি তারা আস্থা হারিয়েছে।
স্কটল্যান্ড 🏴
স্কটিশ এফএ-এর প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, তারা উয়েফার অবস্থানের সাথে একমত এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না।
আয়ারল্যান্ড 🇮🇪
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FAI) উয়েফার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
ইতালি 🇮🇹
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FIGC) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, পরবর্তী নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোর প্রার্থিতা সমর্থন করবে না।
ফিনল্যান্ড 🇫🇮 ও সার্বিয়া 🇷🇸
ফিনল্যান্ড সবার আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং সার্বিয়াও একই পথে হাঁটে।
সুইডেন 🇸🇪, ক্রোয়েশিয়া 🇭🇷 ও আলবেনিয়া 🇦🇱
এই দেশগুলোর ফেডারেশনও সুশাসন ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণ দেখিয়ে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
গ্রিস 🇬🇷
গ্রিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও উয়েফার অবস্থানের সাথে একমত পোষণ করে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
জার্মানি 🇩🇪 ও ডেনমার্ক 🇩🇰
এই দেশগুলো আগেই ইনফান্তিনোকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই তাদের নতুন করে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রয়োজন হয়নি।
নরওয়ে 🇳🇴
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছে এবং খুব দ্রুতই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লিস ক্লাভনেস ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন (রয়টার্স)
নেদারল্যান্ডস 🇳🇱, রোমানিয়া 🇷🇴 ও উত্তর আয়ারল্যান্ড ☘️
এই দেশগুলো সরাসরি সমর্থন প্রত্যাহার না করলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে।
জর্ডান 🇯🇴
জর্ডান প্রথম অ-ইউরোপীয় দেশ যারা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলী বিন আল হুসেন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলেছেন।
নিউজিল্যান্ড 🇳🇿
নিউজিল্যান্ড তাদের ওশেনিয়া কনফেডারেশনের অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ইনফান্তিনোর সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
কারা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করছে?
কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল (৫৪ সদস্য) 🌍
আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাফ একযোগে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (৪৭ সদস্য) 🌏
এএফসিও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি তাদের পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।
আর্জেন্টিনা 🇦🇷, প্যারাগুয়ে 🇵🇾, মেক্সিকো 🇲🇽, গ্রানাডা 🇬🇩, সেন্ট কিটস এবং নেভিস 🇰🇳, কাতার 🇶🇦, শ্রীলঙ্কা 🇱🇰, কুয়েত 🇰🇼, লেবানন 🇱🇧, ইন্দোনেশিয়া 🇮🇩, ফিলিপাইন 🇵🇭, মঙ্গোলিয়া 🇲🇳, ভুটান 🇧🇹, মরক্কো 🇲🇦, মিশর 🇪🇬, মৌরিতানিয়া 🇲🇷, নাইজার 🇳🇪, সুদান 🇸🇩, ডিআর কঙ্গো 🇨🇩, নাইজেরিয়া 🇳🇬, কোমোরোস 🇰🇲, মালাউই 🇲🇼, উগান্ডা 🇺🇬, গাম্বিয়া 🇬🇲, জিবুতি 🇩🇯
এই দেশগুলো এবং ফুটবল ফেডারেশনগুলো ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচিতে ইনফান্তিনোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীও ইনফান্তিনোর সমর্থনে কথা বলেছেন।
কারা এখনো অবস্থান নেয়নি?
ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (OFC) এবং দক্ষিণ আমেরিকান সংস্থা কনমেবল এখনো চূড়ান্ত কোনো অবস্থান জানায়নি। তারা বিষয়টির পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
এখন পর্যন্ত ১০৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর পক্ষে এবং ৯৫টি সদস্য প্রকাশ্যে তার বিরোধী। নির্বাচনে জয়ের জন্য ইনফান্তিনোকে বাকি দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
