বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল: চার শক্তিশালী দলের শক্তির লড়াই
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যায়ে পৌঁছানো দলগুলোর শক্তির ব্যবধান এখন খুবই সামান্য। নকআউট পর্বের তিনটি ধাপ পেরিয়ে আসা প্রতিটি দলই শিরোপা জেতার জন্য পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই দলগুলো অতীতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং গত দেড় দশকে একাধিক বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছে। টুর্নামেন্ট জয়ের সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নিচে সেমিফাইনালিস্টদের শক্তির অবস্থান দেওয়া হলো।
## ১. ফ্রান্স
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে তালিকার শীর্ষে রেখেছি। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় সেই অবস্থান বজায় রাখার যথেষ্ট কারণ। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ফ্রান্স বল পজিশনে পিছিয়ে থাকলেও তারা পুরো সময় দাপট দেখিয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে বাঁ দিকে থাকায় ফ্রান্স সবসময় আশরাফ হাকিমির পেছনে খালি জায়গা ব্যবহার করেছে। স্পেনের প্রেসিং খেলার বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে আরও কৌশলী হতে হবে, তবে অবশিষ্ট দলগুলোর মধ্যে তাদের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
## ২. স্পেন
স্পেনকে শীর্ষস্থানের দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই টুর্নামেন্টে তারা যৌথভাবে সবচেয়ে কম গোল (একটি) খেয়েছে। স্পেনের প্রেসিং গেম বিপক্ষ দলকে কোণঠাসা করে রাখে, যা তাদের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের মধ্যে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও আক্রমণভাগে স্পেন পুরোপুরি ক্লিক করছে না, তবে তাদের পরিসংখ্যান ফ্রান্সের মতোই শক্তিশালী। সেমিফাইনাল লড়াইটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
## ৩. ইংল্যান্ড
নকআউট পর্বে টানা তৃতীয়বারের মতো এক গোলের ব্যবধানে জিতে ইংল্যান্ড তালিকায় এক ধাপ এগিয়েছে। থমাস টুখেলের কৌশল এবং দলের খেলোয়াড়দের বৈচিত্র্যময় পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ম্যাচ জেতার ক্ষমতা দিয়েছে। হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহাম যেকোনো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। রক্ষণ বা আক্রমণ—উভয় বিভাগেই ইংল্যান্ড যথেষ্ট শক্তিশালী।
## ৪. আর্জেন্টিনা
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। যদিও টুর্নামেন্টে তারা সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করেছে, তবে মাঝমাঠে খেলার জায়গা খুঁজে পেতে তাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। উইং দিয়ে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা ক্রস করার তথ্যে স্পষ্ট। তবুও লিওনেল মেসির জাদুকরী উপস্থিতি এবং দলের অদম্য বিশ্বাস তাদের যেকোনো মুহূর্তে শিরোপার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।
