সেরি আ ও ইউরোপে কাউকে ভয় পায় না ইন্টার: ক্রিস্টিয়ান কিভু
ক্রিস্টিয়ান কিভু জোর দিয়ে বলেছেন যে, সেরি আ বা ইউরোপে ইন্টার মিলান কাউকে ভয় পায় না। গত মৌসুমে ডাবল জেতার পর এবার নতুন করে সব শুরু করতে চান তিনি। পাশাপাশি বেঞ্জামিন পাভার্ড ও অ্যান্ডি ডিউফকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে ইন্টার কোচের।
গত মৌসুমটি সেরি আ-তে তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুম ছিল। তবুও সেরি আ এবং কোপা ইতালিয়া শিরোপা জিতেই মৌসুম শেষ করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই সেই অসাধারণ শুরুর ধারা বজায় রাখার চাপ এখন তার ওপর।
অ্যাপিয়ানো জেন্টিলে গ্রাউন্ডে আজ প্রাক-মৌসুম অনুশীলন শুরু হচ্ছে। এর আগে ইন্টার প্রেসিডেন্ট বেপ্পে মারোত্তার সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন কোচ।
ডাবল জেতার পর ইন্টার থেমে থাকবে না। এ বিষয়ে কিভু বলেন, “এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুপ্রেরণা, কারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আমরা পরবর্তীতে যা করতে চাই, তার কোনো শেষ নেই। গত মৌসুমটি খুব ভালো ছিল, কিন্তু আমরা এখানেই থেমে থাকতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ঝুলিতে এখন ৫০টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে, আগে যা ১৩টি ছিল। আমি আমার সেরাটা দেব। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে চাই এবং গতবারের চেয়েও ভালো কিছু করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখি।”
ইন্টার বর্তমানে দল পুনর্গঠন করছে। ইয়ান সোমার, স্টেফান ডি ভ্রাই, ফ্রান্সেসকো অ্যাসারবি এবং ডেনজেল ডামফ্রিজের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ক্লাব ছেড়েছেন।
কিভু বলেন, “আমরা এমন খেলোয়াড়দের হারিয়েছি যারা এখানে ইতিহাস গড়েছিলেন এবং আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাদের দলে তরুণ ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ রয়েছে, যা বেশ প্রতিযোগিতামূলক। আমরা কোনো অভিযোগ না করে তীব্রতা ও সাহসের সঙ্গে খেলতে চাই।”
গত বছর অনেক কোচই যেখানে সেরা চারে থাকার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, সেখানে কিভু তখন থেকেই স্কুদেত্তো জেতার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলে এসেছেন। এবার ইতালির চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও তার দৃষ্টিভঙ্গি একই।
ইন্টার কোচ নিশ্চিত করেন, “আমরা কাউকে ভয় পাই না।”
তিনি বলেন, “আমার নিজেকে ছাড়া আর কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই। যদিও গত মৌসুমে দুটি ট্রফি জিতেছি, আমার এখনো অনেক দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। তবে আমরা সবসময় শূন্য থেকে শুরু করি।”
সিরি আ এবং কোপা ইতালিয়ায় দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার প্লে-অফ থেকেই ছিটকে যায়। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কিভু বলেন, “জীবনে সবকিছু পাওয়া যায় না। আমরা দুটি ম্যাচে ভুল করেছিলাম, তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েছি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং লিভারপুলের কাছে আমরা শেষ মুহূর্তে হেরেছিলাম। প্লে-অফে আমার ভুলের দায় আমি নিয়েছি, তবে সামগ্রিকভাবে আমরা সবার সঙ্গেই সমান তালে লড়েছি।”
তিনি যোগ করেন, “আমি চাই আমরা যেন সাহসের সঙ্গে খেলি, আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই এবং জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি। আত্মতৃপ্তিতে ভোগা চলবে না। আমরা সবসময় আমাদের সেরা সংস্করণ হতে পারি। আমরা কী জিতেছি তা নিয়ে ভাবছি না, বরং এখন আমাদের কী করা প্রয়োজন তা নিয়েই ভাবছি।”
ট্রান্সফার মার্কেটে বেঞ্জামিন পাভার্ডের বিষয়ে কিভু জানান, “সে আমাদের খেলোয়াড়। গত বছর সে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা আমরা সবাই জানি। সে এখন ফিরে এসেছে, আমরা তাকে অনুশীলনে দেখব এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেব।”
ডামফ্রিজের বিকল্প খোঁজার বিষয়টি বেশ জটিল হয়েছে। প্রথমে চেলসি মার্কো প্যালেস্ত্রাকে ছিনিয়ে নেয়, এরপর ইউনিয়নে সেন্ট-গিলয়েস থেকে আনাান খালাইলি মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তার দলবদল বাতিল হয়ে যায়।
এর পরিবর্তে, কিভু তার দলকে শক্তিশালী করার এক নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন।
কিভু বলেন, “অ্যান্ডি ডিউফকে উইং-ব্যাক হিসেবে খেলানোর একটি পাগলাটে ধারণা আমার মাথায় আছে। খেলায় অনেক সময় সে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়। কোমো’র বিপক্ষে ম্যাচের মতো কিছু ম্যাচে সে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এমন কিছু ম্যাচ থাকবে যেখানে তাকে মিডফিল্ডে খেলানো হবে, তবে আমি তাকে উইং-ব্যাক হিসেবেই পছন্দ করি। তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা আমাদের দলে এখন প্রয়োজন।”
