লামিন ইয়ামালের পাশে দাঁড়ালেন আলেক্স বায়েনা, তরুণ তারকার সমালোচনার কড়া জবাব
ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডালাস স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সতীর্থের পাশ দাঁড়িয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার আলেক্স বায়েনা। তিনি দর্শকদের আহ্বান জানিয়েছেন, কেবল গোল বা পরিসংখ্যানের দিকে না তাকিয়ে ইয়ামালের সামগ্রিক অবদানকে মূল্যায়ন করতে।
পুরো মৌসুম জুড়ে নিজের পারফরম্যান্সের যে উচ্চমান তৈরি করেছিলেন ইয়ামাল, বিশ্বকাপের মঞ্চে তা ধরে রাখতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন বার্সেলোনার এই ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
উপেক্ষিত অবদান
নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে সাংবাদিকদের সামনে বায়েনা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় দলের জন্য এই তরুণ ফরোয়ার্ড যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন, তা অনেকেরই নজর এড়িয়ে যাচ্ছে।
বায়েনা RNE Deportes-কে বলেন, “আমি আশা করি লামিন আজকের মতো পারফর্ম করে যাবে। যদি সে আমাদের একটি গোল বা সিদ্ধান্তমূলক অ্যাসিস্ট দিয়ে সাহায্য করতে পারে, তবে তা বাড়তি পাওনা। তবে আমার মতে, সে একটি দারুণ টুর্নামেন্ট খেলছে।”
বায়েনা আরও যোগ করেন, “অনেকে হয়তো মনে করেন প্রতি ম্যাচে ওকে তিনটি গোল করতেই হবে। সে অবশ্য তা করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমি মনে করি, সে রক্ষণভাগেও দলকে অনেক সহায়তা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সে মাঠে অনেক কিছুই করছে যা হয়তো সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সে অসাধারণ একটি টুর্নামেন্ট কাটাচ্ছে।”
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান ও ভূমিকা
ইয়ামালের পারফরম্যান্স নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, তখন পরিসংখ্যান বায়েনার দাবির পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পথে স্পেনের ছয়টি ম্যাচে মোট ৪০৬ মিনিট মাঠে ছিলেন ইয়ামাল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি দারুণ ভূমিকা রেখেছেন।
যদিও এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তার গোল সংখ্যা মাত্র একটি, যা তিনি সৌদি আরবের বিপক্ষে করেছিলেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি পেলের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তবে তার প্রভাব কেবল গোলেই সীমাবদ্ধ নয়।
লামিন পাঁচটি কি-পাস দিয়েছেন, ২১টি সফল ড্রিবলিং করেছেন—যা এই টুর্নামেন্টে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। এছাড়া তিনি ছয়টি নিখুঁত ক্রসও উপহার দিয়েছেন। বায়েনার বক্তব্য অনুযায়ী, তার রক্ষণাত্মক ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই উইঙ্গার আটটি ট্যাকল জিতেছেন এবং দুটি ইন্টারসেপশন করেছেন, যা বল ছাড়া স্পেনের খেলার ধরনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
হাই-ভোল্টেজ লড়াই
মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তরুণ এই ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাস দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ফ্রান্সকে নিয়ে তার করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইয়ামালের ওপর বাড়তি নজর থাকবে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমানে দেম্বেলেদের মতো তারকা সমৃদ্ধ ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই ফরোয়ার্ডকে সেরা ফর্মে থাকতে হবে।
