ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নতুন প্রেরণা ‘ওয়ান্ডারওয়াল’
একাকী গিটার নিয়ে ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে কোনো গান গাওয়া আর ৪০ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে সমস্বরে একই গান গাওয়া—দুটোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য। এই পার্থক্যই ওএসিসের কালজয়ী গান ‘ওয়ান্ডারওয়াল’-এর জাদু।
যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবল দলের কাছে যেমন ‘কান্ট্রি রোডস’ একটি অনানুষ্ঠানিক থিম সং হয়ে উঠেছে, এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের সেমিফাইনালের পথে এবং তার পরেও ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানটি তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবল এবং সংগীতের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে এই গানে। ৯০-এর দশকের এই ক্লাসিক গানটি এমন এক দলের জন্য নতুনভাবে উঠে এসেছে, যারা খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি করতে চায়। ১৯৬৬ সালের পর নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ড সব সময় আনন্দ আর বিষাদের দোলাচলে থাকে। এমন একটি জাতীয় দলের জন্য ৩০ বছর আগের এই গানটি এখন তাদের মূল স্লোগান হয়ে উঠেছে।
স্টেডিয়ামে সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার জন্য ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ কেন সেরা, তা সহজেই বোঝা যায়। এর সুর সহজ এবং তাল খুব পরিমিত, যা গানটি গাওয়ার জন্য আদর্শ। প্রথমবার শোনার পর মনে হয়, গানটি যেন চিরচেনা। ম্যাচের উত্তেজনা আর আনন্দের মাঝে যখন কোরাস অংশটি আসে— “And aaaafter allll, you’re my wonderwaaaall…”—তখন যে কেউ খুব সহজেই সুর মিলিয়ে নিতে পারেন।
সব দারুণ গানের মতোই, বন্ধুদের সঙ্গে হাত ধরে দোল খাওয়ার সময় এই গান আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ মানে কী, তা হয়তো সঠিকভাবে কারো জানা নেই, কিন্তু তাতে কার কী যায় আসে? গানটি একই সঙ্গে নস্টালজিয়া, আনন্দ এবং সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এমন গান খুব কমই শোনা যায়।
বিশ্বকাপেও এমন মুহূর্ত খুব একটা আসে না। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের পর ডালাস স্টেডিয়ামের স্পিকারে গানটি যখন বেজে উঠল, তখন খেলোয়াড়রা তাদের সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিখুঁত সুরে গানটি গাইলেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্যমতে, এই মুহূর্তটি প্রায় তৈরিই হয়নি; কারণ ডিজে চেয়েছিলেন ‘সুইট ক্যারোলিন’ বাজাতে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ বাজান। আর এভাবেই নতুন এই ঐতিহ্যের জন্ম হয়।
ইংলিশ দলের অফিসিয়াল পডকাস্টে হ্যারি কেন বলেন, “ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে এটি আমার অন্যতম প্রিয় মুহূর্ত ছিল। প্রথম ম্যাচে জেতার পর সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের সেই আবেগপূর্ণ সংযোগ ছিল দেখার মতো।”
এরপর থেকে ইংল্যান্ড অপরাজিত থেকে মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। আর প্রতিটি মুহূর্তেই তাদের সঙ্গী হয়েছে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’। গানটি ফের চার্টের শীর্ষে উঠে এসেছে। স্পটিফাই জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের প্রথম জয়ের পর যুক্তরাজ্যে গানটির শ্রোতা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ওএসিসের লিয়াম গ্যালাহার বলেন, “এটি একটি ক্লাসিক গান এবং আমি এটি গাওয়ার সময় নিজেকে দারুণ অনুভব করি।”
ওএসিস ব্যান্ডের লিয়াম এবং নোয়েল গ্যালাহার গত বছর পুনরায় একত্রিত হন এবং তাদের ট্যুর ব্যাপক সফল হয়। ওএসিসের জন্য এটি একটি ভালো সময়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হোয়াটস দ্য স্টোরি মর্নিং গ্লোরি’ অ্যালবামের এই গানটি আজও মানুষের মনে জায়গা করে আছে।
বিশ্বকাপে গানটির এই জনপ্রিয়তা নিয়ে নোয়েল গ্যালাহার দ্য সান-কে বলেন, “‘ওয়ান্ডারওয়াল’ মানুষের। খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে এই গানটি এক জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করেছে।”
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সামনে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। বুধবার আটলান্টায় তারা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। রবিবার যদি বিশ্বকাপের সমাপনীতেও ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ বাজে, তবে ইংল্যান্ডের জন্য তা হবে এক দারুণ প্রাপ্তি।
