ফুটবল বিশ্বে এখন জুড বেলিংহামের জয়জয়কার
জুড বেলিংহামকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। লন্ডনের বেলিংহাম স্টেশনটির নাম সাময়িকভাবে বদলে রাখা হয়েছে “জুড বেলিংহাম”। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে ঘোষণা করেছে, যাদের নাম ‘জুড’, তারা বিনামূল্যে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের প্রতিটি জয়ের পর প্লে-লিস্টে বাজছে ‘হে জুড’, ‘থ্রি লায়ন্স’ এবং ‘ওয়ান্ডারওয়াল’। বর্তমানে জুড বেলিংহামই একমাত্র খেলোয়াড় যার নিজের নামে গাওয়া ব্যালড রয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেও মনে হয়েছিল এবারের বিশ্বকাপটি হ্যারি কেইনের হতে চলেছে। অসাধারণ এক মৌসুমে ৭২টি গোল করে কেইন তার ক্যারিয়ারের চূড়ায় রয়েছেন। এই তালিকায় লিওনেল মেসি ছাড়া আর কেউ তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। মেসিকে যদি ফুটবলের দেবতা ধরা হয়, তবে হ্যারি কেইন নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা মর্ত্যের মানুষ। রবিবারের ফাইনালে বিশ্বকাপ জিতলে প্যারিসের মঞ্চে সোনালী ট্রফি হাতে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে দিন যত গড়াচ্ছে, এই আসরটি যেন জুড বেলিংহামের বিশ্বকাপে পরিণত হচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার গোলটি ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টের সেরা ৪৫ মিনিটকে উজ্জীবিত করেছিল। পানামার বিপক্ষে গোল করে তিনি অচলাবস্থা ভেঙেছেন এবং অ্যাজটেক স্টেডিয়ামে তার জোড়া গোল দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার প্রথম গোলটি ছিল অসাধারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচয়, আর দ্বিতীয় গোলটি তার ক্ষিপ্র বুদ্ধিমত্তার প্রতিফলন, যা ইংল্যান্ডকে অভাবনীয় জয় এনে দেয়।
Jude-fever. Bellingham-mania. No one has come up with a catchy name for it yet, but it’s happening. A London train stop called Bellingham station has been renamed “Jude Bellingham”. West Midlands Railway is offering free train rides for anyone named Jude. “Hey Jude” is on the playlist after every England win with “Three Lions” and “Wonderwall”, the only player with his own ballad.
Only a couple of weeks ago, this World Cup felt like it would be Harry Kane’s tournament. It could yet be Kane’s pinnacle at the end of an extraordinary season of 72 goals and counting, a tally bettered only once, by Lionel Messi. If Messi is one of football’s deities, then Kane is the greatest mortal ever to do it. Win the World Cup on Sunday, and he will surely end the year on stage in Paris, wearing a shiny suit and holding a golden orb.
বেলিংহামের জন্য এই টুর্নামেন্টটি অন্য সবার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খোদ তার নিজের কোচ এবং বাইরের সমালোচকরা তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ‘দ্য ডেইলি মেইল’-এর এক শিরোনামে বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ দল থেকে বেলিংহামকে বাদ দেওয়া উচিত। ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের পর বেলিংহাম বলেছিলেন, মাঠের বাইরের আলোচনা পাশে সরিয়ে রেখে দেশের জয়ে অবদান রাখাই তার লক্ষ্য।
বিশ্বকাপের আগে কোচ থমাস টুখেলকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল—বেলিনহাম না কি মর্গান রজার্স, কাকে ১০ নম্বর জার্সি দেবেন। সেপ্টেম্বরে কাঁধের অস্ত্রোপচারের কারণে বেলিংহাম বাছাইপর্ব মিস করেছিলেন, যা তার জন্য সময়টা কঠিন করে তুলেছিল। এছাড়া টুখেল একবার তার আচরণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, যার জন্য তিনি পরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
তবে এবারের বিশ্বকাপে বেলিংহাম প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল ইংল্যান্ডের দলের একজন সদস্য নন, বরং তিনিই মূল চালিকাশক্তি। মাত্র ২২ বছর বয়সে চারটি বড় টুর্নামেন্ট খেলা বেলিংহাম রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন ১৯ বছর বয়সে। স্টিভেন জেরার্ড তার চতুর্থ টুর্নামেন্ট খেলেছিলেন ৩০ বছর বয়সে, আর ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের বয়স ছিল ৩৬।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেলিংহামের স্প্রিন্ট সংখ্যা প্রতিযোগিতায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ—প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫৫টি স্প্রিন্ট। এছাড়া বলের দখল নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অসাধারণ সাহসিকতা দেখিয়েছেন। গোল, অ্যাসিস্ট এবং মাঠজুড়ে তার বিচরণ প্রমাণ করে তিনি একজন পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার। স্টিভেন জেরার্ড বা ওয়েইন রুনির চেয়েও এই বিশ্বকাপে বেলিংহামের প্রভাব অনেক বেশি। ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়ের এটিই সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষে, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হাজার হাজার ইংলিশ সমর্থক যখন ‘হে জুড’ গানটি গাইছিলেন, তখন বেলিংহামকে প্রথমবার কিছুটা আবেগাপ্লুত এবং শান্ত দেখাচ্ছিল। রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ তারকা এখন বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়ের নাম।
