২০২৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপ: মাঠে নামার অপেক্ষায় বিশ্বসেরা দলগুলো
২০২৬ সালের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় আপনি কি হতাশ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ দল খুব একটা ভালো করতে না পারায় মন খারাপ? চিন্তার কিছু নেই, কারণ আগামী এক বছরের মধ্যেই মাঠ মাতাতে আসছেন আসল আমেরিকান তারকারা।
আগামী বছরের ২৪ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই টুর্নামেন্টে ৩২টি দেশ ব্রাজিলের আটটি শহরে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।
পুরুষদের টুর্নামেন্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দল খুব বেশি দূর এগোতে না পারলেও, ২০২৭ সালের আসর নিয়ে তাদের নারী দলের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে তিন বছর আগের হতাশাজনক বিদায়ের পর তারা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চায়।
বর্তমানে টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব চলছে এবং ইতিমধ্যে ১৪টি দল তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USWNT) এখনো মূল তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি, তবে এ বছর অনুষ্ঠিতব্য কনকাকাফ ডব্লিউ চ্যাম্পিয়নশিপে এল সালভাদরের বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেলেই তারা চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং স্বাগতিক দেশ ব্রাজিল ইতিমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করেছে।
আগামী গ্রীষ্মের উত্তেজনা শুরুর আগে প্রতিটি দলের বর্তমান অবস্থা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন: স্পেন
২০২৬ সালে পুরুষদের শিরোপা স্পেন জিতলেও, নারী দল কিন্তু অনেক আগেই সেই স্বাদ পেয়েছে। তিন বছর আগে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল। ওলগা কার্দোনার একমাত্র গোলটিই তাদের জয় নিশ্চিত করে।
স্পেনের নারী দলের জন্য এটি ছিল বড় অর্জন। ২০১৫ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর, ২০১৯ সালে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় এবং চার বছরের ব্যবধানে শিরোপা জয় করে। দেশটিতে ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলেই ২০২৩ সালে তারা এই সাফল্যে পৌঁছাতে পেরেছে।
গত এক বছর ধরে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা স্পেন দলে রয়েছেন আইতানা বোনমাতি ও আলেক্সিয়া পুতেয়াসের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলাররা।
স্বাগতিক দেশ: ব্রাজিল
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিল ফুটবল ঐতিহ্যের ধারক। নয়বার অংশ নিয়ে তারা দুইবার পদক জয় করেছে। আগামী গ্রীষ্মে নিজেদের মাটিতে তারা ট্রফি জেতার সুযোগ পাবে।
ব্রাজিল দলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি মার্তা। ২০০২ সালে ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা মার্তা দলের অন্যতম প্রধান শক্তি। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া ছিল ব্রাজিলের সেরা সাফল্য। তিনি দলের হয়ে তিনটি অলিম্পিক রৌপ্য পদকও জিতেছেন। তবে আন্তর্জাতিক আসরে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ট্রফি জেতা হয়নি তার।
২০২৩ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ অলিম্পিকের পর মার্তা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বদলে তিনি দলের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া আমান্দা গুতিয়েরেস, দেবিনহা, কেরোলিন এবং গোলরক্ষক লোরেনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা এবার ঘরের মাঠে ট্রফি জিততে মরিয়া।
প্রতিশোধের অপেক্ষায়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ড
নারী বিশ্বকাপে চারবার শিরোপা জিতে রেকর্ড গড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০২৩ সাল ছাড়া প্রতিবারই তারা সেরা তিনে ছিল। গতবার তারা রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছিল। অন্যদিকে, স্পেনকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে ইংল্যান্ড।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দলই বেশ সফল। ২০২৪ অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ড ২০২৫ সালের ইউরো শিরোপা জয় করেছে। বর্তমানে এমা হেইসের কোচিংয়ে মার্কিন দল নতুন এক যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, সুইডেন, নাইজেরিয়া ও নরওয়ে—এই সাতটি দেশ বিশ্বকাপের প্রতি আসরে অংশ নিয়েছে। জার্মানি দুইবার শিরোপা জিতেছে, আর জাপান ও নরওয়ে পেয়েছে একটি করে ট্রফি। সুইডেন চারবার ব্রোঞ্জ ও একবার রৌপ্য পদক জিতেছে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া নয়বার অংশ নিলেও এখনো কোয়ার্টার ফাইনালের বেশি এগোতে পারেনি।
টুর্নামেন্টে ফ্রান্স, কানাডা, চীন ও ডেনমার্কের মতো দলের দীর্ঘ সাফল্যময় ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে কানাডাকে এখনো কনকাকাফ বাছাইপর্ব খেলে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সাম কার-এর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া দলও তাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
উদীয়মান তারকা: কলম্বিয়া ও উত্তর কোরিয়া
২০২৩ সালে দুর্দান্ত খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল কলম্বিয়া। লিন্ডা কাইসেদো ও লেইসি সান্তোসের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা এবারও দলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
অন্যদিকে, ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরেছে উত্তর কোরিয়া। তাদের যুব দলগুলো অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। জুলাইয়ের ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সিনিয়র দল বর্তমানে ১১তম স্থানে রয়েছে।
