বদলি খেলোয়াড়দের জাদুতে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে হারাল আর্সেনাল
আধুনিক ফুটবল মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমার্ধে চলে নিখুঁত পরিকল্পনা ও কৌশলী ফুটবল, আর শেষ আধঘণ্টায় বদলি খেলোয়াড়দের আগমন এবং রক্ষণাত্মক দেয়াল ভেঙে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সিটি গ্রাউন্ডে নটিংহ্যাম ফরেস্টের রক্ষণভাগের সামনে অনেকটা সময় আর্সেনাল নিষ্প্রভ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মিকেল আর্তেতার ‘ফিনিশার’রাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে এবেরেচি ইজের জায়গায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন নোনি মাদুইকে। ম্যাচের ৮০ মিনিটের দিকে ইজে যা করতে পারেননি, মাদুইকে তা-ই করে দেখান। ফরেস্টের রক্ষণে তীব্র গতিতে আক্রমণ শানিয়ে তিনি শট নেন, যা জায়র কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যাটজ সেলসকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এটি ছিল ম্যাচে আর্সেনালের একমাত্র লক্ষ্যে থাকা শট।
গত সপ্তাহে লিডস এবং মাঝ সপ্তাহে লিঁলের বিপক্ষেই আর্তেতা দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছিলেন। এই ম্যাচেও ৬৫ মিনিটে তিনি জুরিয়েন টিম্বার, মিকেল মেরিনো এবং ভিক্টর গিওকেরেসকে একসঙ্গে মাঠে নামান। আর্তেতার এই কৌশল আবারও কাজে আসে এবং শেষ দিকে ফরেস্টের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। গত মৌসুমের শুরু থেকে প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে আর্সেনালের বদলি খেলোয়াড়রাই সবচেয়ে বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন।
এদিকে আর্সেনালের আক্রমণ রুখতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। কাই হাভার্টজ এবং বুকায়ো সাকা খুব একটা সুযোগ পাননি। ফরেস্টের স্ট্রাইকার লিয়াম ডেলাপ আক্রমণভাগে বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং শেষ দিকে গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন, কিন্তু এজর কনসার ব্লক তা রুখে দেয়। মরিও প্রায় মৌসুমসেরা গোলটি করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে টানা তৃতীয় হারের ফলে পয়েন্ট তালিকার তলানির দিক থেকে তৃতীয় স্থানেই রয়ে গেছে ফরেস্ট।
অন্যদিকে আর্সেনাল ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বেশিরভাগ সময় আর্সেনাল ধুঁকলেও, দলের গভীরতা তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
ম্যাচ শেষে নোনি মাদুইকে বলেন, “আমাদের শুরুর একাদশ ও বেঞ্চের খেলোয়াড়দের মান অসাধারণ। আমরা জানি, কেউ শুরু করবে আর কেউ খেলা শেষ করবে। আমার লক্ষ্য সব সময় গোল করা বা তৈরি করা।”
মিকেল আর্তেতা বলেন, “তিন দিন আগেও অনেকে খেলেছে, আবার অনেকে আগামী ম্যাচে শুরু করবে। ৬০ বা ৪৫ মিনিট, এমনকি দুই মিনিট পর মাঠে নামলেও আমাদের স্কোয়াড মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।”
প্রথমার্ধে আর্সেনাল ৭৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখলেও একটিও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি। রয় কিন বিরতির সময় মন্তব্য করেন, আর্সেনাল প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো দল হলেও তাদের খেলায় ধার ছিল না। প্রথমার্ধে দুই দলের গোলরক্ষককেই সেভাবে পরীক্ষা দিতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে আর্তেতার তিন পরিবর্তনে মেরিনো, টিম্বার ও গিওকেরেস মাঠে নামার পর ফরেস্টের ওপর চাপ বাড়ে। ৭১ মিনিটে আর্সেনাল ম্যাচের সেরা সুযোগ তৈরি করলেও ডেক্লান রাইস লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।
সবশেষে আর্তেতা যোগ করেন, “আমরা জানতাম প্রথম ২০-৩০ মিনিটে গোল পাওয়া কঠিন। ফরেস্ট খুব ভালো কোচিংয়ের অধীনে খেলে। শেষ দিকে যখন প্রতিপক্ষের শারীরিক শক্তি কমে আসে, তখনই আমাদের ‘ফিনিশাররা’ দায়িত্ব পালন করে।”
