নরওয়ের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তুখেলের সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন বেলিংহাম
জুড বেলিংহাম ইংল্যান্ডের কোচ টমাস তুখেলের কঠোর সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তুখেল বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেলিংহাম ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানান।
মায়ামির প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পিছিয়ে পড়েও বেলিংহামের জোড়া গোল ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেয়। এটি ছিল গত ছয় ম্যাচে তাঁর চতুর্থ ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার।
নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেতে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে। এই জয়ের পর কোচ টমাস তুখেল জানান, তিনি দলের পারফরম্যান্সে খুশি নন। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা বেলিংহাম কোচের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
বেলিংহাম বলেন, “সম্ভবত কোচ জানেন না যে এরলিং হালান্ড, ওডেগার্ড, নুসা এবং সোরলথের মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে এই পরিস্থিতিতে খেলাটা কতটা কঠিন। এটি মোটেও সহজ কোনো প্রতিপক্ষ নয়। তাই আমরা একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। আমাদের উচিত সেমিফাইনালের চার দলে সেই ইতিবাচকতা বজায় রাখা। আমি আমার সতীর্থদের প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সব ম্যাচে হাজার হাজার পাস দিয়ে সুন্দর ফুটবল খেলে জেতা সম্ভব নয়। কখনো কখনো কুৎসিত ফুটবল খেলেও জিততে হয়, যা আমরা আজ রাতে করেছি।”
ইংল্যান্ড ভাগ্যবান ছিল কিনা—তুখেলের এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বেলিংহাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বেলিংহামের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় টমাস তুখেল দাবি করেন যে, কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি। গরমের মধ্যে তারা যেভাবে খেলেছে এবং প্রতিকূলতা জয় করে জয়ের পথ খুঁজে বের করেছে, তা সর্বোচ্চ পর্যায়ের।”
তবে কোচ হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি ফুটবল কোচ, তাই আমি মনে করি আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। সব মিলিয়ে এটি খুব উচ্চমানের খেলা ছিল না। আমি মনে করি আমাদের আরও ভালো খেলার সুযোগ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই সেমিফাইনালে ওঠা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোচ হিসেবে আমি মনে করি আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলা উচিত। দলের প্রতি আমার ভালোবাসা ও গর্বের কোনো অভাব নেই, খেলোয়াড়দের সাথে আমার কোনো দূরত্ব নেই।”
এই টুর্নামেন্টে হ্যারি কেনের ছয় গোল স্পর্শ করেছেন বেলিংহাম। টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে সেমিফাইনালে টেনে তুলেছেন এই ২৩ বছর বয়সী তরুণ।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বেলিংহাম বলেন, “সত্যি বলতে, এটি আমার কল্পনার চেয়েও বেশি। আমি আত্মবিশ্বাসী, তবে রাতে ঘুমানোর সময় আমি এমন ম্যাচের স্বপ্ন দেখি না। দলের জন্য অবদান রাখতে পারাটা দারুণ। তবে দলের অন্য খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার প্রশংসা করতেই হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা গর্বের দাবিদার।”
