২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা মিলল কিছু স্মরণীয় গোলের
২০২৬ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গোলের সংখ্যাও। ৪৮টি দল মিলে এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৩০৭টি গোল করেছে। গোল করার তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ইংল্যান্ড (২০টি) ও ফ্রান্স (২০টি), এবং তাদের ঠিক পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা (১৯টি)।
টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতিটি দলই গোল উদযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একমাত্র পানামা ছাড়া প্রতিটি দলই গোল করতে সক্ষম হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্যের প্রদর্শনী দেখা গেছে, যার মধ্যে কিছু গোল ছিল সত্যিই অসাধারণ। ফাইনাল ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের সেরা কিছু গোলের তালিকা তুলে ধরা হলো।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সিডনি লোপেস কাব্রালের গোল
বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলটি এসেছে অপ্রত্যাশিত এক উৎস থেকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাব্রাল গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। কেপ ভার্দে পুরো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে। অতিরিক্ত সময়ে গোল খাওয়ার পর কাব্রাল ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে ম্যাচটি জিতলেও, কাব্রালের এই গোলটি বিশ্বকাপে আন্ডারডগ হিসেবে কেপ ভার্দের লড়াইয়ের স্মারক হয়ে থাকবে।
লিওনেল মেসির দুর্দান্ত শুরু
লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ শুরু করেন। তার তিনটি গোলই ছিল চমৎকার, তবে প্রথম গোলটি ছিল তার অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। সতীর্থদের পাস দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মেসি পেনাল্টি আর্কের ওপর থেকে সরাসরি জোরালো শটে বল জালে জড়ান। ফাইনালে যাওয়ার আগে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে ছিলেন মেসি।
ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের ইতিহাস
টুর্নামেন্টে এমবাপ্পে মোট ১০টি গোল করেছেন। সেনেগালের বিপক্ষে তার করা দ্বিতীয় গোলটি ছিল দেখার মতো। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন। শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টি, যা মেসির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
হাইতির একমাত্র গোলদাতা উইলসন ইসidor
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে উইলসন ইসidor বক্সের বাইরে থেকে এক জোরালো শটে গোল করে হাইতিকে এগিয়ে দেন। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতির জন্য টুর্নামেন্টে এটিই ছিল একমাত্র গোল। দল গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ইসidor-এর এই গোলটি সমর্থকদের মনে রয়ে যাবে।
আর্লিং হালান্ডের অসাধারণ পারফরম্যান্স
নরওয়ের আর্লিং হালান্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যান। তিনি মোট সাতটি গোল করেছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে রাউন্ড অফ ১৬-এর ম্যাচে তিন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক অ্যালিসনকে কাটিয়ে হালান্ডের গোলটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের হয়ে হালান্ড ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপে আরও গোল করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জিও রেইনার ট্রাভেলা শট
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে জিও রেইনা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে তিনি পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে অবিশ্বাস্য এক ‘ট্রাভেলা’ শটে বল জালে জড়ান।
জুলিয়ান আলভারেজের গোল
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন ১১২তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলতে নেমে নরওয়ের বিপক্ষে গোল করেন আমাদ দিয়ালো। ৬০ মিনিটে মাঠে নেমে ১৪ মিনিটের মাথায় তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি এই গোলটি করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ২-১ গোলে জয়ী হয়।
আন্দ্রিয়াস জেলডেরুপের চমক
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের আন্দ্রিয়াস জেলডেরুপ ডি-বক্সের বাইরে থেকে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে একটি অসাধারণ গোল করেন। যদিও সেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জিতে নেয়।
মালিক টিলম্যানের ফ্রি কিক
যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার মালিক টিলম্যান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে এবং পরবর্তী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে গোল করেন। তার এই ফ্রি কিকগুলো টুর্নামেন্টের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত ছিল।
জুড বেলিংহামের একক জাদু
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেঙে জুড বেলিংহাম মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান। ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, যা ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা একক প্রচেষ্টা।
