ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পরপরই রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিউস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। এই অ্যাটাকারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী মৌসুমের শেষেই শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে আগামী গ্রীষ্মে তাকে ফ্রি ট্রান্সফারে হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
খেলোয়াড়টি ছয় মাসের মধ্যেই অন্য কোনো ক্লাবের সঙ্গে প্রি-কন্টাক্ট চুক্তি করার যোগ্য হয়ে উঠবেন। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
ভিনিসিউসকে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ
‘এল দেবাতে’-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে এই গ্রীষ্মেই তাকে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন কোচ হোসে মরিনহো দ্রুতই এই পরিস্থিতির সমাধান চান। পর্তুগিজ এই কোচ দলে কোনো অস্পষ্টতা বা ঝুলে থাকা পরিস্থিতি পছন্দ করেন না।
মরিনহো পরিষ্কারভাবে জানতে চান, ভিনিসিউস রিয়ালেই তার ভবিষ্যৎ গড়বেন কি না। ভিনিসিউস নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে রিয়াল মাদ্রিদ এক বছর পর তাকে বিনামূল্যে হারানোর চেয়ে এখনই বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ ঘরে তুলতে চায়। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে দল সাজানোর পাশাপাশি মাইকেল ওলিস, রদ্রি এবং আলেসান্দ্রো বাস্তোনির মতো খেলোয়াড়দের দিকে নজর দেওয়া মরিনহো তার প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ খেলোয়াড়দেরই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
চুক্তি নবায়নে দরকষাকষির বর্তমান অবস্থা
তড়িঘড়ি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে, বিশেষ করে অর্থের ইস্যুতে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান প্রস্তাব ভিনিসিউসের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৬ থেকে ১০ মিলিয়ন ইউরো কম। ক্লাবটি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো নেট বেতনের প্রস্তাব দিলেও, ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়টির পক্ষ থেকে আরও বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো বড় সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ক্লাবটি। রিয়াল মাদ্রিদের এই অনীহার পেছনে শুধু আর্থিক কারণ নেই; ক্লাবটি তাদের নির্ধারিত বেতন কাঠামো ভাঙতে চাইছে না। ভিনিসিউসের জন্য ব্যতিক্রম করলে ভবিষ্যতে অন্যান্য খেলোয়াড়দের চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রিয়াল কর্তৃপক্ষ। ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে চলতে চায় ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা।
