ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চার পরাশক্তির লড়াই
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হুলিয়ান আলভারেজের গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম সেরা গোল। এটি কেবল একটি অসাধারণ শট ছিল না, বরং এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।
ফিফার ভিভিআইপি বক্সে আর্জেন্টিনার জয়োল্লাসের চেয়েও বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেজের মধ্যে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তিত্বকে আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রধান ক্লাউদিও তাপিয়াকে জড়িয়ে ধরে যেভাবে উদযাপনে মাততে দেখা গেছে, তা ছিল লক্ষণীয়।
এই গোলটি আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। স্বাভাবিকভাবেই ফিফার কর্মকর্তারা এই ফলাফলে বেশ খুশি। এটি এমন এক সেমিফাইনাল লাইনআপ তৈরি করেছে, যা অনেক ফুটবল প্রেমীর কাছেই ছিল স্বপ্নের মতো।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে বড় দলের লড়াই খুব একটা দেখা যায়নি। এখন ভক্তরা দুটি ‘সুপার-ক্লাসিকো’ এবং একটি ব্লকবাস্টার ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় আছেন। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দল জায়গা করে নিয়েছে। এটি এমন একটি শক্তিশালী চার দল, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেনের লড়াইকে অনেকেই ‘আসল ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন। ফ্রান্স এবং স্পেন—উভয় দলই এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করেছে। একদিকে স্পেনের পেপ গার্দিওলা ঘরানার পজিশনাল ফুটবল, অন্যদিকে দিদিয়ের দেশমের ট্যাকটিক্যাল বিচক্ষণতা—সব মিলিয়ে এটি একটি দুর্দান্ত লড়াই হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াই যেন নতুন করে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনালের পর থেকে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এক বিশেষ উত্তেজনা কাজ করে। ২০০৫ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম ম্যাচ এবং ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে তারা। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের অনেক গানেই ‘লাস মালভিনা’ বা ফকল্যান্ড দ্বীপের প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা এই ম্যাচটিকে কেবল একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছুর মর্যাদা দিয়েছে। লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই প্রথম ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
উভয় দলই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইংল্যান্ড হোক বা আর্জেন্টিনা—তাদের খেলায় ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলকই ম্যাচ নির্ধারণ করে দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে মেসি, এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম এবং হ্যারি কেনের মতো তারকারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালগুলো ইতিহাসের সেরা হতে যাচ্ছে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। বিশ্বকাপের এই চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোই সাধারণত মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকে।
