ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলরক্ষক রাদেক ভিটেকের দিকে নজর সেল্টিকের
ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ পিট ও’রোর্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলরক্ষক রাদেক ভিটেককে পাওয়ার দৌড়ে নেমেছে সেল্টিক। তবে এই তরুণ গোলরক্ষককে দলে টানতে শুধু সেল্টিকই নয়, প্রিমিয়ার লিগে নতুন উঠে আসা হাল সিটি এবং গ্লাসগোতে সেল্টিকের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রেঞ্জার্সও আগ্রহী।
২২ বছর বয়সী এই সাবেক চেক যুব আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় তার নিজ দেশের সিগমা ওলোমউকের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। ২০২০ সালের গ্রীষ্মে রেড ডেভিলরা তাকে দলে ভেড়ায়। রিজার্ভ দলের হয়ে খেলার পর, তাকে ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের ফুটবল ক্লাব অ্যাক্রিংটন স্ট্যানলিতে লোনে পাঠানো হয়।
গোলপোস্টের নিচে ভিটেকের অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে ২০২৪-২৫ মৌসুমের আগে অস্ট্রিয়ার শীর্ষ লিগের ক্লাব ব্লাউ-ওয়েইজ লিঞ্জে ধারে খেলার সুযোগ করে দেয়। সেখানে ২৬টি লিগ ম্যাচে ৬টি ক্লিনশিট রেখে তিনি দলকে পয়েন্ট তালিকার প্রথমার্ধে জায়গা করে দিতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ব্রিস্টল সিটিতে যোগ দেন। সেখানে ৪১টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে দলকে পয়েন্ট তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে রাখতে ভূমিকা রাখেন। এখন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে থাকার চেয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে ক্লাব ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
কেন সেল্টিকের পার্কহেডে ভিটেককে প্রয়োজন
ক্যাসপার স্মাইকেলের অবসরের পর সেল্টিক এখন নতুন গোলরক্ষক খুঁজছে। তবে এবার তাদের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের বদলে তারা কম বয়সী গোলরক্ষকদের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে দিনকো হরকাস, নিকোলাস পোলস্টার, আলেকজান্ডার বোবেক এবং জার্ক আর্নস্টের মতো নামগুলো সেল্টিকের সাথে জড়িয়েছে। অথচ এর আগে জো হার্টের উত্তরসূরি হিসেবে ডেনিশ অভিজ্ঞ গোলরক্ষক স্মাইকেলকে দলে নিয়েছিল তারা।
বর্তমানে সেল্টিকের গোলরক্ষক হিসেবে ভিলজামি সিনিসালো এবং রস ডুহান রয়েছেন। স্মাইকেলের চোট সিনিসালোর জন্য সুযোগ হয়ে আসে এবং ফিনিশ এই গোলরক্ষক দলের ঘরোয়া ডাবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে শৈশবের ক্লাবে ফিরে আসার পর থেকে রস ডুহান সেভাবে খেলার সুযোগ পাননি। তাই সিনিসালোর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ব্যাকআপ হিসেবে নতুন গোলরক্ষক প্রয়োজন।
ভিটেক তার দুর্দান্ত শট-স্টপিং ক্ষমতা এবং শারীরিক কাঠামোর জন্য পরিচিত। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলরক্ষক বক্সের ভেতরে দারুণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন এবং ক্রস থেকে বল বিপদমুক্ত করতে পটু। এছাড়াও কঠিন সব শট ঠেকানোর জন্য তার প্রশংসা রয়েছে। যদিও গোললাইন থেকে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে কিছু ভুল করেন, তবে কোচ মার্টিন ও’নিলের অধীনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে তিনি আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।
