লিভারপুলের ৩০ শতাংশ শেয়ার কেনার দৌড়ে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস
বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী ব্যক্তি লিভারপুলের মতো একটি ক্লাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সুখবর মনে হলেও, লিভারপুল সমর্থকরা এই বিনিয়োগের বিষয়টি বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। এর কারণ টম হিকস ও জর্জ জিলেটের শাসনামলের সেই দুঃসহ স্মৃতি, যা এখনো তাদের মনে গেঁথে আছে।
বর্তমানে লিভারপুলের ৩০ শতাংশ শেয়ার কেনার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম অগ্রসর আলোচনা চালাচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিলিয়নেয়ার জেফ বেজোস। ফোর্বস-এর তথ্য অনুযায়ী, বেজোসের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫৭ বিলিয়ন পাউন্ড। তুলনা করলে দেখা যায়, গত বছর লিভারপুল রেকর্ড ৭০৩ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব আয় করলেও, বেজোসের সম্পদ তার ২৭০ গুণ বেশি। বিনিয়োগকারীর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কোনো তথ্য না থাকায় ভক্তরা চিন্তিত।
এফএসজি (FSG) বর্তমানে সফলতার মুখ দেখছে। ২০১০ সালে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল তারা। সেই সময় ক্লাবের সিইও বিলি হোগান জানিয়েছিলেন, লিভারপুল তখন দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। এফএসজি এ পর্যন্ত প্রায় ২১৮ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ১৬ বছর পর, ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব থেকে তারা ১.৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড পেতে পারে, যেখানে ক্লাবের বর্তমান মূল্য ধরা হয়েছে ৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। এটি ২০১০ সালের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি।
ফুটবল অর্থ বিশেষজ্ঞ কিয়েরান ম্যাগুয়্যার বলেন, “এটি এফএসজির জন্য একটি দুর্দান্ত চুক্তি। তারা প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আয় করছে এবং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতেই থাকছে।” তবে এই বিনিয়োগের মানে এই নয় যে লিভারপুল এখন ট্রান্সফার মার্কেটে অঢেল খরচ করতে পারবে। প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াড কস্ট রেশিও নিয়মের কারণে নতুন মালিকের সম্পদ ক্লাবের ট্রান্সফার বাজেটে সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
জেফ বেজোস পাঁচ বছর আগে আমাজনের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এখনো কোম্পানির অন্যতম বড় শেয়ারহোল্ডার। তিনি অ্যারোস্পেস কোম্পানি ব্লু অরিজিন, ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম ন্যাশ হোল্ডিংস এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক। গত সপ্তাহে তিনি নিজের ৩.১ বিলিয়ন পাউন্ডের আমাজন শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি প্রমিথিউস নামে একটি এআই কোম্পানি গড়েছেন। বেজোস এর আগে আমেরিকান স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন, তবে লিভারপুলে বিনিয়োগ করলে তা হবে তার প্রথম বড় কোনো ফুটবল বিনিয়োগ।
এই কনসোর্টিয়ামে বেজোসের সঙ্গে আরও রয়েছেন ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩.৭ বিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, যিনি ১৮ বছর ধরে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের পরিচালক ও সহ-মালিক ছিলেন। তবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একাধিক ক্লাবে বড় অংশীদার হতে পারেন না, তাই ভাটিয়ার সরে আসা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি লিভারপুলের এই চুক্তিতে যুক্ত আছেন।
লিভারপুলের সমর্থক গোষ্ঠী ‘স্পিরিট অফ শ্যাঙ্কলি’ (SOS) এই বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে। তারা জানতে চায়, ৩০ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা ক্লাবে কতটা নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং বোর্ডের সদস্য হবেন কি না। এছাড়া আমাজন কর্মীদের প্রতি আচরণের বিষয়টিও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে আমাজনের কাজের পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছিল।
লিভারপুল ভক্তরা ক্লাবের স্থায়িত্ব এবং এর ঐতিহ্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। আগের মালিকদের ভুলের কারণে লিভারপুল যে আর্থিক সংকটে পড়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই সমর্থকরা এখন যেকোনো বিনিয়োগের খুঁটিনাটি যাচাই করছেন। যদিও এই বিনিয়োগ লিভারপুলকে আর্থিক দিক থেকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করাবে, তবে ক্লাবের ট্রান্সফার খরচ বা মাঠের বাইরের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
