বার্মিংহাম সিটির সাথে বার্সেলোনার ড্র: প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে তরুণদের ঝলক
বার্সেলোনার প্রথম বড় প্রাক-মৌসুম পরীক্ষাটি বার্মিংহাম সিটির সাথে ২-২ ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। কাতালান ক্লাবটির হয়ে হামজা আবদেলকারিম দুটি গোলই করেছেন। তবে পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা হেরে যায়।
বিশ্বকাপে ব্যস্ততার কারণে দলের অনেক নিয়মিত খেলোয়াড় এই ম্যাচে ছিলেন না, তাই ম্যাচের ফলাফল এখানে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে কোচ হ্যান্সি ফ্লিক এই সুযোগে বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে যাচাই করে নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন। বার্সেলোনার এই ড্র থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া গেছে।
হামজা আবদেলকারিম, এক সহজাত স্ট্রাইকার
সেন্ট অ্যান্ড্রুস থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন হামজা। এই মিশরীয় খেলোয়াড় বার্সেলোনার দুটি গোলই করেছেন, যা তার জাত চেনাতে সাহায্য করেছে। তার পেনাল্টি কিকে ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাস এবং দ্বিতীয় গোলটিতে তার সহজাত গোল করার দক্ষতা ফুটে উঠেছে।
রিবাউন্ড থেকে পাওয়া বলটি তিনি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেভাবে গোলটি করেছেন, তা একজন দক্ষ নম্বর নাইনের বৈশিষ্ট্য। বার্সেলোনা যখন নতুন একজন স্ট্রাইকার খুঁজছে, তখন ১৮ বছর বয়সী হামজার এই পারফরম্যান্স কোচ ফ্লিককে নিশ্চয়ই আশাবাদী করবে।
প্রথম দলের জন্য প্রস্তুত আলভারো কোর্তেস
তরুণ ডিফেন্ডার আলভারো কোর্তেস এই ম্যাচে বেশ পরিণত ফুটবল খেলেছেন। অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের সামনে তিনি কোনো চাপ অনুভব করেননি। বল দখলে রেখে তিনি ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মাঠের পুরো সময়জুড়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তার আত্মবিশ্বাসী পেনাল্টি কিকও তার মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। যদি বার্সেলোনা নতুন কোনো ডিফেন্ডার না কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আলভারো কোচ ফ্লিকের জন্য দলের ভেতরেই একটি ভালো সমাধান হতে পারেন।
এব্রিমা তুনকারার বিশাল সম্ভাবনা
লা মাসিয়ার অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত এব্রিমা তুনকারা এই ম্যাচে নজর কেড়েছেন। গোল না পেলেও তার ড্রিবলিং দক্ষতা ছিল দারুণ। তিনি দ্রুত পায়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং শারীরিক শক্তিতেও তিনি যথেষ্ট দক্ষ। ল্যামিন ইয়ামালের বল কন্ট্রোল এবং আদামা ত্রাওরের শারীরিক শক্তির এক চমৎকার সংমিশ্রণ তুনকারা। এই মৌসুমে তাকে আরও বড় সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
আলেক্স গঞ্জালেজের চমক
দ্বিতীয়ার্ধে শেন ক্লুইভার্টের বদলি হিসেবে নামা আলেক্স গঞ্জালেজ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি উইং দিয়ে বারবার আক্রমণ তৈরি করেছেন এবং পেনাল্টি বক্সে ঢুকে বার্সেলোনার আক্রমণে বাড়তি গতি যোগ করেছেন। জর্ডি পেস্কুয়ের সাথে তার বোঝাপড়া ছিল দেখার মতো। গঞ্জালেজ এই ম্যাচে নিঃসন্দেহে একটি বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন।
নতুন খেলোয়াড় আদেইমির অভিষেকটি খুব বড় না হলেও কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। রাইট উইংয়ে তিনি সতীর্থদের সাথে ভালো সমন্বয় গড়ে তুলেছিলেন এবং তার গতি বার্মিংহামের ডিফেন্সকে সমস্যায় ফেলেছিল। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে, তবে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে তাকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। তার দ্রুতগতি এবং আক্রমণের ইচ্ছা ফ্লিকের কৌশলের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যাবে।
