বহু বছর পর মুখোমুখি লুটন ও এমকে ডনস: সমর্থকদের মনে পুরোনো ক্ষোভ
লুটন টাউন এবং এমকে ডনস—এই দুই ক্লাবের দূরত্ব মাত্র ২০ মাইল। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে কোনো ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন ন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে এমকে ডনসের মাঠে খেলতে গিয়েছিল লুটন টাউন। এরপর বিভিন্ন লিগে ওঠা-নামার কারণে দীর্ঘ সময় তাদের দেখা হয়নি। অবশেষে শনিবার লিগ ওয়ানের ম্যাচে এমকে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে চলেছে দল দুটি।
লুটন টাউন এবং এমকে ডনসের মধ্যে কোনো চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। এটি ওয়াটফোর্ডের সঙ্গে লুটনের গভীর শত্রুতার মতোও নয়। তবে এমকে ডনসের প্রতি লুটন সমর্থকদের ক্ষোভ এখনো প্রবল। এর মূল কারণ ২০০৩ সালে উইম্বলডন ফুটবল ক্লাবকে মিল্টন কেইনসে সরিয়ে নিয়ে আসা। লুটন সমর্থকরা একে একটি ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ দল এবং ক্লাবের ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে মনে করেন।
লুটন টাউনের সমর্থক মাইক ফ্যানিং বলেন, “আমি মিল্টন কেইনস শহরকে ঘৃণা করি না, তবে তারা যে আদর্শ ধারণ করে, আমি তার বিরোধী। এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল, যা ফুটবলের মূল চেতনার পরিপন্থী। ফুটবল হলো ক্লাব এবং এর সমর্থকদের আবেগ ও সম্প্রদায়ের মিলনস্থল। কেউ চাইলেই একটি ক্লাবকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে পারে না।”
‘এমকে হ্যাটার্স’ হওয়ার ঝুঁকি
আশির দশকে লুটন টাউন নিজেও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। আর্থিক সংকটের মুখে থাকা ক্লাবটিকে মিল্টন কেইনসে সরিয়ে নিয়ে ‘এমকে হ্যাটার্স’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব ছিল। ১৯৮৩ সালে ফুটবল লিগ প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনা অনুমোদনও করেছিল। তবে সমর্থকদের ব্যাপক প্রতিবাদ, মিছিল এবং হাজার হাজার স্বাক্ষরিত পিটিশনের মুখে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়।
সে সময়ের আন্দোলনকারী এবং লুটন সমর্থক জন পাইপার বলেন, “আশির দশকে আমরা আমাদের ক্লাবকে বাঁচাতে লড়াই করেছিলাম। আমরা ডিরেক্টরদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গেম বয়কট করেছিলাম। পরবর্তীতে যখন অন্য একটি ক্লাবকে মিল্টন কেইনসে সরিয়ে নেওয়া হলো, তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তারা কেন নিজেদের এলাকা থেকে নতুন ক্লাব তৈরি করল না?”
মাইক ফ্যানিং আরও বলেন, “আমরা যদি সে সময় প্রতিবাদ না করতাম, তবে লুটন টাউন আজ ‘এমকে হ্যাটার্স’ হয়ে যেত। আমাদের ক্লাবের বর্তমান অস্তিত্বের পেছনে সেই সময়ের অনুগত সমর্থকদের বড় অবদান রয়েছে। তাই শনিবারের ম্যাচটি অনেক সমর্থকের কাছেই বেশ আবেগের।”
কী ভাবছে এমকে ডনস?
এমকে ডনসের সমর্থকরা দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই ক্ষোভ ও বিদ্বেষ দেখে আসছেন। নিয়মিত মাঠে যাওয়া এমকে ডনস সমর্থক জন স্কুডামোর বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। লুটন ভক্তদের ক্ষোভ আমরা বুঝি, তাদের ক্লাবের সংগ্রামের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে আমরা এমকে সমর্থকরাও আমাদের অবস্থানের ব্যাপারে অনড়।”
এমকে ডনসের ম্যানেজার পল ওয়ান সম্প্রতি তাঁর খেলোয়াড়দের ক্লাবের এই ইতিহাস সম্পর্কে জানিয়েছেন, কারণ স্কোয়াডের অনেকে এই বিষয়টি জানতেন না। তিনি বলেন, “২০ বছর আগের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান খেলোয়াড়দের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং লুটন থেকে হাজার হাজার সমর্থক আসায় আমাদের নিজেদের সমর্থকরা আরও বেশি সোচ্চার হবে, যা ম্যাচে দারুণ পরিবেশ তৈরি করবে।”
৬ হাজার লুটন সমর্থকের উপস্থিতি
লুটন সমর্থকদের একটি পক্ষ শনিবারের ম্যাচটি বয়কটের ডাক দিলেও, প্রায় ৬ হাজার সমর্থক এমকে স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। লয়াল লুটন সাপোর্টার্স গ্রুপের কেভিন রাউস জানান, এটি প্রত্যেকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “আমাদের কমিটি ম্যাচ বয়কট করছে। আমাদের কাছে এটি একটি গভীর ক্ষতের মতো, তাই আমরা এমকে ডনসকে স্বীকৃতি দেব না। তবে এ বিষয়ে কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না, এটি যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
