লাৎসিওর কাছে হারার পর সতীর্থদের ওপর ক্ষুব্ধ গ্লেইসন ব্রেমার
লাৎসিওর কাছে ৩-০ গোলে হারের পর নিজের জুভেন্টাস সতীর্থদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্লেইসন ব্রেমার। তিনি বলেন, ‘আমি একা সবাইকে টেনে নিতে পারি না। দলের কেউ কেউ দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনলে লুকিয়ে পড়ে এবং ভয় পায়।’
ম্যাচটি ছিল বেশ নাটকীয়। খেলা শেষে অনেক দর্শক আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং যারা মাঠে ছিলেন, তারা ঘরের মাঠে এই লজ্জাজনক হারের জন্য দুয়োধ্বনি দেন।
অলিভার প্রোভস্টগার্ডের হেড, গুস্তাভ ইসাকসেনের অ্যাঙ্গেল ড্রাইভ এবং শেষ দিকে ফিসায়ো দেলে-বাশিরুর কাউন্টার-অ্যাটাক লাৎসিওর ৩-০ গোলের অপ্রত্যাশিত জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে লাৎসিও ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টারের সাথে সেরি আ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। জুভেন্টাস বর্তমানে এই দুই দলের চেয়ে আট পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং পয়েন্ট টেবিলে ক্রমাগত নিচে নামছে।
জুভেন্টাস খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনা করলেন ব্রেমার
স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে ব্রেমার বলেন, “আমাদের পারফরম্যান্স খুবই বাজে ছিল। স্বাভাবিকভাবেই জুভেন্টাস জার্সি এভাবে উপস্থাপন করায় আমরা খুশি নই। আমাদের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে, কারণ এর চেয়ে বেশি সময় আমাদের হাতে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সুযোগ ছিল এবং গোল খাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা ভালো খেলেছি। লাৎসিও তাদের প্রথম সুযোগেই গোল করে ফেলায় আমরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এই সমস্যাগুলো আমাদের দ্রুত সমাধান করতে হবে।”
ক্যাগলিয়ারি কোচ ফ্যাবিও পিসাকানের সাথে টাচলাইনে বিবাদের কারণে এই ম্যাচে লুসিয়ানো স্পালেত্তি নিষিদ্ধ ছিলেন। তবে নিজের খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম সংকল্পের অভাব দেখে তিনি বিস্মিত ছিলেন।
কোচ নিজেই নিজের কাজের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাই দলের ভেতর থেকে ব্রেমার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? জবাবে জুভেন্টাস ডিফেন্ডার বলেন, “এটি সত্য যে কোচ নির্দেশনা দেন, কিন্তু মাঠে তা বাস্তবায়ন আমাদেরই করতে হয়।”
তিনি যোগ করেন, “মাঠে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে, সাথে বেঞ্চ থেকে আসা আরও পাঁচজন। তাই আমি সবাইকে একা টেনে নিতে পারি না। আমি তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করি, কথা বলি, কিন্তু প্রত্যেকের নিজস্ব চরিত্র আছে। আমরা তাদের একটা পর্যায় পর্যন্ত চাপ দিতে পারি, কিন্তু এর বেশি নয়; কারণ অনেকেরই ব্যক্তিত্ব অন্যরকম।”
ব্রেমার আরও বলেন, “তারা যখন দুয়োধ্বনি শোনে, তখন তারা লুকিয়ে পড়ে এবং ভয় পায়। আমি জানি আমাদের দলে অনেক নতুন ও তরুণ খেলোয়াড় আছে। কয়েক বছর আগের জুভেন্টাসের সাথে তুলনা করলে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
তিনি আরও বলেন, “এর মানে এই নয় যে আমি কাউকে আঙুল তুলে দোষারোপ করছি, তবে সবাই ভিন্ন। পরিস্থিতি যখন খারাপ হয়, কেউ কেউ সংকল্প নিয়ে লড়াই করে, আবার কেউ কেউ নিজেকে লুকিয়ে ফেলে। এটি আসলে তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব।”
