ব্রেক্সিট জটিলতায় যে পথে আলাদা হলেন ইরাওলা ও ইনিকো পেরেজ
মঙ্গলবার রাতে অ্যানফিল্ডের ডাগআউটে যখন ইনিকো পেরেজ তার অবস্থানে দাঁড়াবেন, তখন পাশেই থাকবেন আন্দোনি ইরাওলা। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং একসাথে কাজ করার ইতিহাসের কারণে এই দৃশ্যটি অনেকটা অনিবার্য মনে হতে পারে। একসময় মনে হয়েছিল, ইরাওলা যেখানে যাবেন, পেরেজও সেখানেই তার সঙ্গী হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মাঠে নামছেন। তাদের এই বিচ্ছেদের পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই, বরং এর কারণ ব্রেক্সিট-পরবর্তী জটিল আমলাতান্ত্রিক নিয়ম।
ইনিকো পেরেজ এখন ভিলারিয়ালের কোচ। ভিন্ন কোনো নিয়ম থাকলে হয়তো তিনি আজও ইরাওলার সহকারী হিসেবেই কাজ করতেন। লিভারপুলের ইতিহাসে বব পেইজলি এবং জো ফ্যাগান এমন সহকারী ছিলেন যারা কখনও প্রধান কোচের পদ চাননি, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সেই দায়িত্ব নিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন। এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্যাম্পেইনে ইরাওলা মুখোমুখি এমন একজন কোচের, যিনি মূলত পরিস্থিতির শিকার হয়ে এই অবস্থানে এসেছেন। পেরেজ ইরাওলার সহকারী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
২০২৩ সালে যখন বোর্নমাউথ রায়ো ভায়োকানো থেকে ইরাওলাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়, তখন যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেছে। ইরাওলা তখন লিভারপুলের বর্তমান স্পোর্টিং ডিরেক্টর রিচার্ড হিউজের সাথে কাজ করছিলেন। পেরেজকে ইংল্যান্ডে কাজ করার অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। কিন্তু বারবার বাধার মুখে পড়েন তারা। ইরাওলা জানান, পেরেজের পর্যাপ্ত যোগ্যতা নেই বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারবার সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা তার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল।
ইরাওলা সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমরা তাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কাজের অনুমতি না থাকায় তিনি কাজ করতে পারেননি। আমরা প্যানেলকে বোঝানোর জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তিনি সহকারী কোচ হওয়ার যোগ্য নন। আমি তখন অভিযোগ করেছিলাম কারণ আমি মাত্র দুজনকে সাথে নিয়ে আসছিলাম: পাবলো এবং ইনিকো। এটি খুব কঠিন ছিল কারণ সবকিছুই ছিল সাময়িক।”
তবে ইরাওলা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত পেরেজের জন্য ভালোই হয়েছে। রায়ো ভায়োকানোতে ইরাওলার উত্তরসূরি ফ্রান্সিসকো ব্যর্থ হওয়ার পর তারা পেরেজের ওপর আস্থা রাখে। পেরেজ দলকে টিকিয়ে রাখেন এবং দুইবার অষ্টম স্থানে নিয়ে যান। এরপরই ভিলারিয়াল তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। ইরাওলা বলেন, “তার জন্য এটি ভালো হয়েছে। এখন তিনি ভিলারিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোচিং করাচ্ছেন এবং আমি তার জন্য অত্যন্ত আনন্দিত।”
পেরেজকে না পেয়ে ইরাওলা বোর্নমাউথের টমি এলফিক এবং শন কুপারের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ইরাওলা জানান, তারা দায়িত্বগুলো নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং দুর্দান্ত কাজ করেন। ইরাওলার সাথে পেরেজের সম্পর্ক বহু পুরনো, যা শুরু হয়েছিল অ্যাথলেটিক ক্লাবের একাডেমিতে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ইরাওলা তাকে রায়ো ভায়োকানোতে সহকারী হিসেবে সাহায্য করার অনুরোধ করেছিলেন।
বাস্ক কান্ট্রি থেকে আসা এই দুই কোচের দেখা এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে। সাধারণত ফুটবলের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত কথা বললেও, মুখোমুখি হওয়ার আগে তাদের মধ্যে যোগাযোগ কমে এসেছে। ইরাওলা বলেন, “সম্পর্কের খাতিরে এই বিষয়গুলো ভালো নয়। আমরা সাধারণত লা লিগা বা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কথা বলি, কিন্তু এখন খেলা যত কাছে আসছে, আমরা যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছি।”
পেরেজ এবং ইরাওলা দুজনেই হাই-প্রেসিং ফুটবল কৌশলের সমর্থক। তাই লিভারপুল বনাম ভিলারিয়াল ম্যাচটি একই ধরনের কৌশলের লড়াই হতে পারে। ইরাওলা বলেন, “আমার জন্য এটি একটি বিশেষ ম্যাচ কারণ সে আমার বন্ধু। সে আমাকে খুব ভালোভাবে চেনে, আমার সবকিছু জানে। এটি বেশ অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।”
