মার্সেইয়ের দিনগুলো ও ফরাসি ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ক্রিস ওয়াডল
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা এবং অলিম্পিক দ্য মার্সেইয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিস ওয়াডল ‘গেট ফ্রেঞ্চ ফুটবল নিউজ’-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সে কাটানো তাঁর দিনগুলো, ক্লাবের বর্তমান প্রত্যাশা এবং ইংরেজি তরুণ খেলোয়াড়দের বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
মার্সেই শহরে যাওয়াটা ছিল ওয়াডলের ক্যারিয়ারের এক বড় মোড়। টটেনহ্যাম হটস্পারে তিনি বেশ সুখী ছিলেন, কিন্তু ক্লাবের সিদ্ধান্তে মার্সেইতে পাড়ি জমানোকেই নিজের জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটি বলে মনে করেন তিনি। মার্সেইয়ের ফ্যানাটিক বা উন্মাদ সমর্থকদের কথা শুনে শুরুতে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও গ্লেন হডলের পরামর্শে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিলেন। যদিও ভাষা এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ওয়াডল জানান, টটেনহ্যামের তুলনায় মার্সেইতে তার ফিটনেস নিয়ে সমস্যা ছিল। দলবদলের পর লিঁওর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই তাড়াহুড়ো করে তাকে ফিট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ওয়াডলের ভাষায়, “আমি সম্ভবত ফিট হওয়ার জন্য আরও দুই-তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু ক্লাবের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে তারা আমাকে দ্রুতই মাঠে নামাতে চেয়েছিল।”
মার্সেই সমর্থকদের আবেগ নিয়ে ওয়াডল বলেন, “আমি মার্সেই সমর্থকদের মতো এমন ফুটবলের পাগল ভক্ত আগে কখনো দেখিনি। তারা ক্লাবটিকে নিয়ে বেঁচে থাকে। এটা আমার কাছে স্বপ্নের দ্বীপের মতো ছিল।” তিনি আরও জানান, পুরো ফ্রান্সে মার্সেইয়ের বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে ক্লাবের ধারাবাহিকতার অভাব তাকে সবসময় হতাশ করে। তিনি বলেন, মার্সেই যেন একটি লিফটের মতো, যা কখনো চূড়ায় ওঠে আবার পরক্ষণেই বেসমেন্টে নেমে যায়।
তিন বছরের টানা শিরোপা জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলার স্মৃতি রোমন্থন করলেও, রেড স্টার বেলগ্রেড বা স্পার্টা প্রাগের বিপক্ষে কিছু ম্যাচের কথা উল্লেখ করে ওয়াডল তার আফসোসের কথাও জানিয়েছেন।
বর্তমান সময়ে পিএসজির আধিপত্য নিয়ে ওয়াডল বলেন, মার্সেইয়ের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। পিএসজি যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তাতে তাদের টপকানো কঠিন। পিএসজি এখন ইউরোপের সেরা দল। মার্সেই সমর্থকদের জন্য পিএসজির চেয়ে পিছিয়ে থাকাটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
প্যারিস এবং মার্সেইয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং দুই শহরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। ইংল্যান্ডের ডার্বিগুলোর সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এখানে মাঠের লড়াইটা ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ফ্রান্সে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াডল জানান, ইংল্যান্ডের খেলার চেয়ে ফরাসি ফুটবলে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবহাওয়ার কারণেও খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তরুণ ইংরেজি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিদেশে খেলা একটি ইতিবাচক দিক। নতুন লিগ এবং ভিন্ন সংস্কৃতির ফুটবল শেখা খেলোয়াড়দের বিকাশে সাহায্য করে। তিনি নিজে ইংল্যান্ডের চেয়ে বিদেশে তার নিজস্ব খেলার শৈলী ফুটিয়ে তোলা সহজ মনে করতেন।
