১৯৬৬ সালের পর আর ফাইনাল খেলা হলো না ইংল্যান্ডের, হতাশাজনক হারে বিদায়
১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল ইংল্যান্ডের। আটলান্টায় বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
একাদশ খেলোয়াড়
জর্ডান পিকফোর্ড: নরওয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচের তুলনায় এই গোলরক্ষক অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করায় পিকফোর্ড পায়ের কাজে অনেক সময় বল পেয়েছেন। তবে একটি ভুল পাসের কারণে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। দারুণ একটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখলেও শেষ মুহূর্তে ফার্নান্দেজের জোরালো শট আটকাতে পারেননি। ৭
রিস জেমস: কোচ টুখেলের একাদশে ফেরার সিদ্ধান্তটি প্রায় সফলই হতে চলেছিল। রক্ষণ এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই তিনি মানসম্মত পারফরম্যান্স দেখান। তবে ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগ ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্টপেজ টাইমে মার্টিনেজ গোল করে বসেন। ৭
জন স্টোন্স: দলের রক্ষণভাগে স্টোন্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে। চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তেও তিনি শান্ত ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, মার্টিনেজ যখন জয়সূচক গোলটি করেন, তখন তিনি হেড করতে ব্যর্থ হন। ৬
মার্ক গেহি: রক্ষণভাগে আবারও নির্ভরতার পরিচয় দিয়েছেন গেহি। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি অত্যন্ত সুসংহত ছিলেন। ৭
জেড স্পেন্স: নরওয়ের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামার পর যে ফর্ম দেখিয়েছিলেন, আজও তা অব্যাহত ছিল। ওয়ান-অন-ওয়ান ডিফেন্ডিংয়ে তিনি দুর্দান্ত ছিলেন এবং অ্যান্থনি গর্ডন মাঝমাঠে চলে আসায় তিনি আক্রমণে গতি যোগ করেন। একবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারালেও পিকফোর্ডের কল্যাণে বিপদ কাটেনি। সিমিওনেকে আটকাতে তার শেষ মুহূর্তের ট্যাকল ছিল স্মরণীয়। ৮
এলিয়ট অ্যান্ডারসন: ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলা সচল রেখেছেন। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার সেরা পারফরম্যান্স। কঠিন পরিস্থিতিতে বল রিসিভ করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করায় তিনি দক্ষ ছিলেন। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখলেও সামলে খেলেছেন, তবে দলের জয় নিশ্চিত করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ৮
ডেক্লান রাইস: অসুস্থতা কাটিয়ে রাইসকে তার চেনা ছন্দে দেখা গেছে। যথারীতি মাঠে প্রচুর দৌড়েছেন এবং জেমস ও মরগান রজার্সের সঙ্গে ভালো সংযোগ তৈরি করেছেন। তার শক্তিশালী দৌড়ই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ী করতে পারেননি। ৭
জুড বেলিংহাম: মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষের কৌশলী খেলার বিপরীতে তিনি দারুণ লড়াই করেছেন। প্রথমার্ধে বিপজ্জনক পজিশনে ফ্রি-কিক আদায় করে নেন। পুরো ম্যাচে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণের ওপর চাপ বজায় রেখেছেন। তার কর্মতৎপরতা ছিল দেখার মতো। ৭
মরগান রজার্স: ডান দিকে গর্ডনের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে চেপে ধরেছিলেন প্রতিপক্ষকে। তার দৌড়ানোর ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে কার্যকর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। গর্ডনের গোলের পেছনে তার অ্যাসিস্ট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৭
অ্যান্থনি গর্ডন: ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রায় নিয়ে যাচ্ছিলেন গর্ডন। তার অপরিসীম কর্মতৎপরতা আবারও প্রমাণিত হলো। বাঁ দিক থেকে দারুণ চাপ তৈরি করেছেন এবং গোল করেছেন। ৮
হ্যারি কেন: প্রথমার্ধে তিনি সেভাবে বলের সংস্পর্শে আসতে পারেননি, প্রথম ৪৫ মিনিটে মাঠে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তার স্পর্শ ছিল সবচেয়ে কম। তবে তিনি যখন নিচ থেকে খেলা পরিচালনা শুরু করেন, তখন তার একটি পাস থেকেই ইংল্যান্ডের গোলের সুযোগ তৈরি হয়। ৭
বদলি খেলোয়াড়
এজরি কনসা (৭২ মিনিট): ইংল্যান্ড পাঁচজনের রক্ষণভাগে সরে আসলে তাকে মাঠে নামানো হয়, কিন্তু শেষ দিকে দুটি গোল খাওয়ার দায় রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তার ওপরও বর্তায়। ৬
নিকো ও’রাইলি (৮২ মিনিট): ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড়কে উচ্চতা এবং বল পজেশন ধরে রাখার উদ্দেশ্যে নামানো হয়েছিল। তবে এই পরিবর্তন কাজে আসেনি এবং ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ৬
ড্যান বার্ন (৮২ মিনিট): সাধারণত ম্যাচ বের করে নেওয়ার জন্য বার্নকে নামানো হলেও আজ কোচের এই কৌশল কার্যকর হয়নি। ৬
