বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় ইংল্যান্ড, হতাশ সমর্থকরা
আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ইংল্যান্ড। এই পরাজয়ে গভীরভাবে হতাশ দেশটির সমর্থকরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। তবে ৮৫ মিনিটের মাথায় এনজো ফার্নান্দেজ গোল শোধ করে খেলায় সমতা ফেরান। এরপর ৯২তম মিনিটে মার্টিনেজ গোল করলে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা। জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রচুর ফাউলের ঘটনা ঘটে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলিতে বক্সপার্কে খেলা দেখা সমর্থকরা ইংল্যান্ডের এই হারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেমিফাইনাল থেকে দলের বিদায়ের ঘটনায় সমর্থকদের মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
৩৩ বছর বয়সী যমজ ভাই লুক এবং ভি মুর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভি মুর বলেন, “আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এটি বিশ্বকাপ জেতার বড় সুযোগ ছিল, অথচ আর্জেন্টিনা খুব একটা শক্তিশালী দল ছিল না। আমরা রক্ষণাত্মক খেলেছি বলেই আজ ভালো দলের কাছে হারিনি।” লুক মুর বলেন, “আমি হতাশ। আমার মনে হয়েছিল ট্রফি আমাদের ঘরেই আসবে। আমরা চেয়েছিলাম কোচ যেন দ্রুত বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান, কিন্তু তা হয়নি।”
লন্ডনের হ্যারি ফাইন বলেন, “আমি খুবই দুঃখিত। আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। হ্যারি কেন কোথায় ছিলেন? আমাদের দল জেতার সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরাই হেরেছি।”
ইংল্যান্ড দলকে সান্ত্বনা জানিয়ে ওয়েলসের প্রিন্স ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “খুবই কষ্ট হচ্ছে। তবে ইংল্যান্ড, তোমরা সর্বস্ব দিয়ে খেলেছ এবং আমরা তোমাদের নিয়ে গর্বিত। এই টুর্নামেন্টে তোমরা যে লড়াই আর বিশ্বাস দেখিয়েছ, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।” স্যার কিয়ার স্টারমারও দলের প্রশংসা করে বলেন, “আজকের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, কিন্তু এই দল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্ত কোচ টমাস টুখেলের কৌশলের সমালোচনা করেন। সমর্থকদের অভিযোগ, গোল করার পর রক্ষণাত্মক হওয়ার সিদ্ধান্তই হারের কারণ। ম্যাচের পর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের বাইরে লুইস চেস্টার বলেন, “টুখেলের কৌশল খুব নেতিবাচক ছিল। গোল করার পর যদি আমরা আক্রমণের ধারা বজায় রাখতাম, তবে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।”
