লিভারপুলের বিপক্ষে উদযাপন নিয়ে সমালোচনার মুখে ম্যানচেস্টার সিটি
লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের পর অতিরিক্ত উদযাপনের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবলাররা। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সিটির এমন উদযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেস্কা তার দলের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, তার খেলোয়াড়রা ভুল কিছু করেননি।
একটি স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ গোপন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর এই প্রথম মাঠে নেমেছিল দলটি। সেই রায়ে ক্লাবটির বিরুদ্ধে ভুয়া স্পনসরশিপ চুক্তিরও অভিযোগ আনা হয়। এরমধ্যেই রবিবার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পায় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচটিতে সিটির হয়ে গোল করেন এরলিং হালান্ড, জেরেমি ডোকু এবং রায়ান চেরকি। মাঠ এবং ড্রেসিংরুমে দলের খেলোয়াড়দের অতি উচ্ছ্বাসের সমালোচনা করেন অনেক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকরা।
এই সমালোচনা প্রসঙ্গে এনজো মারেস্কা বলেন, “কিসের জন্য সমালোচনা? আমরা অ্যানফিল্ডে ০-৩ গোলে জিতেছি। আপনারা আমাদের কী করতে বলছেন? জয় ১-০ ব্যবধানে হলেও ফলাফল একই হতো। আমরা ম্যাচ জেতার জন্যই প্রতিদিন পরিশ্রম করি। আমাদের মনোযোগ শুধুমাত্র সেই লক্ষ্যেই থাকে।” তিনি আরও বলেন, “বাইরের বাকি বিষয়গুলো আমাদের সামলে নিতে হয়। তবে মাঠ এবং ড্রেসিংরুমে আমরা সবাই অনেক বেশি আনন্দিত ছিলাম।”
দলের অধিনায়ক রুবেন দিয়াসও কোচের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, লিভারপুলের মাঠে জয় পাওয়া যেকোনো সময়ের জন্যই বিশেষ। সিটির এই অধিনায়ক বলেন, “আমি কোচের কথার সঙ্গে একমত। অ্যানফিল্ডে জয় পাওয়াটা বড় অর্জন। মৌসুমের যে সময়ই হোক না কেন, আমরা সবসময়ই আনন্দ করব এবং উদযাপন করব। আমাদের কাছে এই জয়ের গুরুত্ব কতটা, তা এভাবেই প্রকাশ পায়।”
প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার বা পয়েন্ট কাটার মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা থাকলেও, ক্লাবের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন রুবেন দিয়াস। এটিই ছিল সিটির কোনো খেলোয়াড়ের সরাসরি এই রায়ের বিষয়ে মন্তব্য। অ্যানফিল্ডের গ্যালারি থেকে তাকে এবং তার সতীর্থদের ‘প্রতারক’ বলে সম্বোধন করা হলেও, এসব বিষয়ে বিচলিত নন দিয়াস।
তিনি আরও বলেন, “একজন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার সময় আপনাকে সব ধরনের শব্দের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়। আমি বিশ্বাস করি, পুরো দলের পক্ষ থেকেই বলছি, আমরা শান্ত আছি। আমরা ক্লাবের ওপর আস্থা রাখি এবং ফুটবল উপভোগে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা জানি আমাদের দল কেমন। মানুষ আমাদের জয় পছন্দ করে না, কিন্তু আমরা জিততে ভালোবাসি।”
