বিশ্বকাপ শেষে রেফারি নিয়ে সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনাকারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা খেলোয়াড় ও কোচদের শাস্তির বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। দ্য অ্যাথলেটিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার ও কোচ রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নীতি অবলম্বন করেছে ফিফা।
প্রতিবেদন অনুসারে, টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষ হওয়ার পরই মূলত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। রেফারিদের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ম্যাচের পর কোচ ও খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
রাউন্ড অব সিক্সটিনে মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজার টমাস টুখেল ম্যাচ পরিচালনাকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। সেই ম্যাচে জ্যারেল কোয়ানসাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
টুখেল রেফারিংয়ের মানকে “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” এবং “অবিশ্বাস্য” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, রেফারিরা চাইলেই খুব সহজে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেন। এছাড়া টাচলাইনে চতুর্থ অফিসিয়াল যেভাবে কোচদের সঙ্গে আচরণ করেন, তা নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায়ের পর ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশমও রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
যদিও তিনি সরাসরি রেফারির দুর্বল পারফরম্যান্সের অভিযোগ আনেননি, তবুও তার মন্তব্যের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা।
কলিনা ম্যাচ পরিচালনাকারীদের পক্ষ নিয়ে দাবি করেন যে, ফিফার রেফারিরা বিশ্ব ফুটবলের সেরাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বাইরের চাপে রেফারিরা প্রভাবিত হতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন।
টুর্নামেন্টে সবচেয়ে জোরালো সমালোচনা আসে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া মিশরের পক্ষ থেকে।
মিশরীয় কোচ হোসেন হাসান দাবি করেন যে, ম্যাচের আগে রেফারিকে চাপে রাখা হয়েছিল। এছাড়া স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো সরাসরি রেফারির সিদ্ধান্তকে দলের পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন।
“আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সেরা ছিলাম,” হোসেন বলেন। “মাঠের ভেতরে এবং ম্যাচের আগে বাইরের কিছু অভ্যন্তরীণ প্রভাব এর সঙ্গে জড়িত ছিল।”
“এটা স্পষ্ট যে, ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা পক্ষ থেকে রেফারিকে যে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তা সফল হয়েছে। কারণ তারা ফ্রান্স এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের উদাহরণ টেনে রেফারিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।”
ফিফা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। সংস্থাটি শুধুমাত্র তাদের ম্যাচ অফিসিয়ালদের দক্ষতা ও সততার ওপর পূর্ণ আস্থা থাকার কথা জানিয়েছে।
