ফিফা প্রতিযোগিতায় বয়কটের হুমকির মুখেও অনড় ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত
ফিফা প্রতিযোগিতায় উয়েফার বয়কটের হুমকির মুখেও ফ্রান্স আগামী মাসে অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে খেলবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট শুরু হতে ২৯ দিন বাকি থাকলেও, বিবিসি স্পোর্টসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, তখন ইউরোপীয় ফুটবলের ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ইনফান্তিনো তার “ভুল” স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, বয়কটের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল থাকতে পারে। তবে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) বিবিসি স্পোর্টসকে নিশ্চিত করেছে যে, টুর্নামেন্ট নিয়ে তাদের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা জানিয়েছে, “আপাতত ফ্রান্স ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে।” উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন এবং স্বাগতিক পোল্যান্ডসহ ইউরোপের ছয়টি দল খেলার কথা রয়েছে।
উয়েফার এই অবস্থান কঠোরভাবে কার্যকর হলে নারী ফুটবল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
-
৫ সেপ্টেম্বর: নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
-
অক্টোবর: ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ রয়েছে।
-
অক্টোবর: মরক্কোতে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
-
জুন ২০২৭: উয়েফার বয়কটের কারণে প্লে-অফে অংশ নিতে না পারলে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনসহ ইউরোপের কোনো দলই নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে না।
ফিফা বয়কটের সিদ্ধান্ত ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক: লুসি ব্রোঞ্জ
ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ মনে করেন, ফিফা প্রতিযোগিতায় উয়েফার বয়কটের সিদ্ধান্ত ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য “সঠিক”। যদিও এটি নারী ফুটবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চেলসির প্রাক-মৌসুম সফরে নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকালে ব্রোঞ্জ বলেন, “আমি মনে করি ইউরোপের যে খেলোয়াড়রা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, আমরা আমাদের বিশ্বাস এবং ফুটবলের জন্য যা সঠিক, তার পক্ষেই আছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এর অর্থ হয় প্রতিযোগিতা বয়কট করা, তবে তাই করতে হবে। এটি শুধু আমার আজকের বা আগামীকালের জন্য নয়, বরং খেলাটির ভবিষ্যতের জন্য। আমাদের পরে আসা ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে যে খেলাটি যেন সঠিক পথে এগিয়ে যায়।”
বিবিসি স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার অনিতা আসান্তে বলেন, “এর প্রথম বলি হবে নারী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো। যদি ইংল্যান্ডের বাছাইপর্বের আগেই এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ।”
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নারী ফুটবল বিভাগের সাবেক পরিচালক ব্যারনেস ক্যাম্পবেল এই পরিস্থিতিকে “দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছেন। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়া ওয়েলস, আলবেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াসহ অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনও ইনফান্তিনোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
