চোট কাটিয়ে ফরাসি লিগে নিজের ছন্দে জিও রেইনা
চার বছরের দীর্ঘ সময় ধরে জিও রেইনার ক্যারিয়ার মানেই ছিল কেবল ‘সম্ভাবনা’ আর সেই সম্ভাবনার অপূর্ণতার গল্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেলেও চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয়েছে তাকে। ফলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
২০২০-২১ মৌসুমে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে আর্লিং হালান্ড, জুড বেলিংহ্যাম এবং জেডন সানচোর সঙ্গে খেলার সময় রেইনা প্রায় ২,০০০ মিনিট মাঠে ছিলেন। কিন্তু এরপরের পাঁচটি মৌসুমের কোনোটিতেই তিনি ৬৩০ মিনিট লিগ ম্যাচ খেলার গণ্ডি পেরোতে পারেননি। নটিংহ্যাম ফরেস্ট বা বরুশিয়া মনশেনগ্ল্যাডবাখ—সবখানেই তিনি ছিলেন মূলত বদলি খেলোয়াড়। তবে এত কিছুর পরও গ্রেগ বারহাল্টার ও মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দলে নিয়মিত সুযোগ দিয়েছেন রেইনাকে। তারা বিশ্বাস করতেন, ফিট থাকলে রেইনার মতো সহজাত প্রতিভা খুব কম খেলোয়াড়েরই আছে।
For an entire four-year cycle, to write about Gio Reyna was to write about his potential – especially the nagging feeling that it was going unfulfilled. Once hyped as possibly the greatest prospect in US men’s history, a series of injuries kept him from simply taking the field, much less making his mark on it.
বর্তমানে সেই দিনগুলো বদলেছে। বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের পর রেইনা ফ্রান্সের ক্লাব স্ট্রাসবুর্গে যোগ দিয়েছেন। দলটির তরুণ খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২১.৬ বছর, যা অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের মতো। দলের একজন নিয়মিত সদস্য এবং দুইবার বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড় হিসেবে রেইনা এখন নিজেকে একজন অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে গড়ে তুলছেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন এবং পুনর্বাসনের দিকে নজর দিচ্ছি। মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে তৈরি রাখছি। আমি ভালো অনুভব করছি এবং প্রতিবার মাঠে নামার সময় আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।”
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলা চারটি প্রীতি ম্যাচেই রেইনা শুরুর একাদশে ছিলেন। ফ্রান্সে ফেরার পর শনিবার পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি স্ট্রাসবুর্গের প্রথম একাদশে জায়গা করে নেন। যদিও পিএসজি ম্যাচটি জিতে নেয়, তবে রেইনা নিজের জাত চিনিয়েছেন। পিএসজির গোল খাওয়ার আগে রেইনাই দলের হয়ে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন। খভিচা কাভারাৎশখেলিয়ার পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে তিনি দারুণ দক্ষতায় ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এবং নিখুঁত শটে গোল করেন।
এটি কেবল একটি গোল নয়, বরং রেইনার ফেরার গল্প। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে টানা আটটি ম্যাচ খেলেছেন। ২৪ বছর বয়স হতে এক মাস বাকি থাকতে রেইনা শেষ পর্যন্ত তার ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন। এখন তার ওপর দলের একক কোনো ভার নেই, কারণ মার্কিন দলে এখন নতুন অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছে।
পিতা ক্লডিও রেইনার ছায়া এবং ডর্টমুন্ড আমলের প্রত্যাশার চাপ কাটিয়ে জিও রেইনা এখন নিজের মতো করে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। স্ট্রাসবুর্গে এখন তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের গল্প নিজেই লিখছেন।
