ফুটবলারদের অনিশ্চিত জীবন: মাঠের বাইরের লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন জেসিকা বোমন্ট
ফুটবলারদের জীবন মানেই গ্ল্যামার আর আভিজাত্য—সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা থাকলেও বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন। ফুটবলার ওয়েন ডেইলের সঙ্গী জেসিকা বোমন্ট সম্প্রতি তুলে ধরেছেন এক অনিশ্চিত জীবনের কথা। ট্রান্সফার উইন্ডো বা দলবদলের মৌসুমে একজন খেলোয়াড়ের পরিবারকে কীভাবে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, তা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।
জেসিকা জানান, সন্তান জন্মের সময়ও ওয়েনকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তার ম্যানেজার এবং এজেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলায়। হাসপাতাল থেকে ফেরার পরপরই ওয়েনকে লোনে অন্য ক্লাবে যোগ দিতে হয়। এই পরিবর্তনের তালিকায় থাকা পোর্টসমাউথ শহরটি তাদের বাড়ি থেকে ২০০ মাইলেরও বেশি দূরে। যে বাড়িটিতে তারা নতুন সংসার পাততে চেয়েছিলেন, সেখানে মাত্র এক রাত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। জেসিকা বলেন, “গত পাঁচ বছরে আমরা পাঁচবার বাসা পরিবর্তন করেছি।”
দলবদলের এই নিয়ম প্রিমিয়ার লিগ, ইংলিশ ফুটবল লিগ (EFL) এবং উইমেনস সুপার লিগে (WSL) প্রতি বছর দুইবার—জানুয়ারি এবং গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে কার্যকর হয়। আধুনিক ফুটবলে এক ক্লাব থেকে অন্য ক্লাবে ঘুরে বেড়ানো অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেসিকা যখন ওয়েনের সঙ্গে পরিচিত হন, তখন তিনি ছিলেন ক্রু আলেকজান্দ্রাতে। এরপর ব্ল্যাকপুলে বদলি হওয়ার পর তাদের জীবন হয়ে ওঠে আরও অনিশ্চিত।
জেসিকা বলেন, “আমি ফুটবলার বলে তাকে ভালোবাসিনি, তাই ফুটবলারদের জীবনের এই অনিশ্চয়তা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। ব্ল্যাকপুলে লোন চুক্তির সময় আমরা জানতাম না ওয়েন সেখানে থাকবে নাকি ক্রুতে ফিরে যাবে। ওই সময়েই আমি আমাদের ছেলে জেভিয়ারের মা হতে যাচ্ছিলাম।”
পোর্টসমাউথে যাওয়ার বিষয়টি জেসিকাকে মানসিকভাবে বেশ চাপে ফেলেছিল। সন্তান জন্মের পর ১০ ঘণ্টার ভ্রমণ করে ওয়েনের সঙ্গে দেখা করা তাদের জন্য কঠিন ছিল। ফলে কনগ্লটনের বাড়িটি ভাড়া দিয়ে তারা নিজেরাই ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। জেসিকাকে বাধ্য হয়ে তার আইন পেশাও ছাড়তে হয়।
২৭ বছর বয়সী ওয়েন ডেইল তার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় লিগ ওয়ানে অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি একজন ফ্রি এজেন্ট। ওয়েন বলেন, “পরিবারের ত্যাগ সম্পর্কে আমি খুব সচেতন। চুক্তিপত্রে সই না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে, তাই বারবার বাড়ি পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকেই যায়।”
বর্তমানে জেসিকা আইন পেশার বদলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করছেন এবং বাড়ি থেকেই তা পরিচালনা করছেন। নিজের অভিজ্ঞতাগুলো তিনি টিকটকে শেয়ার করেন। জেসিকা বলেন, “মানুষ মনে করে ফুটবলারদের জীবন খুব বিলাসবহুল, কিন্তু আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ক্যারিয়ারের খাতিরে আমি আবেগপ্রবণ হওয়া এড়িয়ে চলি।”
তাদের দুই সন্তান, চার বছর বয়সী জেভিয়ার এবং দুই মাস বয়সী এট্টাকে নিয়ে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জেসিকা জানান, জেভিয়ারের চতুর্থ জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করতেও তাদের বেগ পেতে হয়েছে, কারণ তারা জানতেন না যে তখন তারা কোথায় থাকবেন। তবুও সন্তানদের এই জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত করে তুলছেন তারা।
সবশেষে, একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্যদের পরামর্শ দিয়ে জেসিকা বলেন, “ফুটবলের বাইরে নিজের একটি পরিচয় রাখা খুব জরুরি। নিজের শখ বা রুটিন থাকলে অনিশ্চয়তাগুলো সামলানো সহজ হয়। আর আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং সবসময় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকাটাই এই জীবনের মূলমন্ত্র।” জেসিকা মনে করেন, এই জীবন যেমন কঠিন, তেমনি রোমাঞ্চকর। তার কথায়, “ফুটবলারদের জীবনে আপনি কখনোই বোর হবেন না!”
