ল্যাস্কের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় লিভারপুলের, হ্যাটট্রিকে জ্বলে উঠলেন বারকোলা
লিভারপুলের সঙ্গে ল্যাস্কের ম্যাচের আগের দিন কোচ আন্তোনি ইরাওলাকে বারবার ফ্লোরিয়ান উইর্টজ এবং ব্র্যাডলি বারকোলার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। খেলোয়াড়দের চড়া মূল্যের কারণে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু দেখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মৌসুমের শুরুতে তারা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছিলেন না। তবে কোচ ইরাওলা তার শিষ্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে জানান, তিনি তাদের ওপর শতভাগ আস্থা রাখেন।
ইরাওলা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিলেও, উইর্টজের জন্য ১১৬ মিলিয়ন এবং বারকোলার জন্য ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচের পর তাদের কাছ থেকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স আশা করাই স্বাভাবিক। অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরে উইর্টজ একটি চমৎকার প্রদর্শনী উপহার দেন এবং তার একটি অ্যাসিস্টের সুবাদে লিভারপুল ৬-৩ গোলে জয় পায়।
তবে এই রাতের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন বারকোলা। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের ২৩৮তম ম্যাচে তিনি তার প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হারের পর এই জয় লিভারপুলকে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনল। ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ডান ও বাম পা দিয়ে দুটি চমৎকার গোল করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন।
ম্যাচ শেষে কোচ ইরাওলা হাসিমুখে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ব্র্যাডলির জন্য খুব আনন্দিত। গতকাল আপনারা তাদের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু আজ তারা দুজনেই অসাধারণ খেলেছে। তারা ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ব্র্যাডলি পুরো সময়টাতেই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে ছিল। সে আমাদের খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক সাহায্য করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি এই পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করা সবসময়ই কঠিন। অনুশীলনেও সে বেশ প্রাণবন্ত ছিল, আমরা বুঝতে পারছিলাম সে ভালো কিছু করতে যাচ্ছে।” এখন বারকোলা আগামী শনিবার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে নিজের ফর্ম বজায় রাখতে চাইবেন।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে আসল পরীক্ষা
অস্ট্রিয়ান বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন ল্যাস্কের বিপক্ষে প্রথমার্ধে লিভারপুল ছিল অপ্রতিরোধ্য। তারা দ্রুতই তিন গোলের লিড নিয়ে নেয়। তাদের আধিপত্য এতটাই বেশি ছিল যে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। প্রথমার্ধে লিভারপুল ১৯টি শট নেয়, যা ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর কোনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে সর্বোচ্চ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া এবং তিনটি গোল খাওয়া ছিল লিভারপুলের জন্য চিন্তার বিষয়।
জেেরেমি ফ্রিম্পং এক গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন, আর কোস্তাস সিমিকাসও দুটি গোল করিয়েছেন। গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া রোনাল্ড আরাউহো লিভারপুলের হয়ে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন এবং লুইস কৌমাসও গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ২১ বছর বয়সী কৌমাস লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল ও অ্যাসিস্ট করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল স্টিভেন জেরার্ডের।
তবে স্টিফেন ওয়ার্নক মনে করেন, লিভারপুলের জন্য আসল পরীক্ষা বাকি। তিনি বলেন, “বারকোলা ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে কেমন করে সেটাই দেখার বিষয়। তাকে মূলত বড় ম্যাচে জেতানোর জন্যই কেনা হয়েছে। এই মৌসুমের শুরু থেকেই সে খুব বেশি ফুটবল খেলেনি, তাই এই ম্যাচটি তাকে ফিটনেস ফিরে পেতে সাহায্য করেছে। তবে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠের ম্যাচটিই হবে তার আসল পরীক্ষা।”
